৯/১১’র আগেই বিন লাদেনের হামলার তালিকায় ছিল ভারত
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার আগেই ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বাধীন আল-কায়েদার মূল হামলার নিশানায় ছিল ভারত। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা নথি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের তথ্যানুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক হামলার ছক কষেছিল সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার আগেই আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের পরিকল্পনার তালিকায় ভারতের কৌশলগত স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- যুক্তরাষ্ট্রে হামলার ঠিক দুই দিন আগে ৯ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের তালেবানবিরোধী নর্দার্ন অ্যালায়েন্স প্রধান আহমদ শাহ মাসুদকে আত্মঘাতী বোমায় হত্যা করে আল-কায়েদা।
- মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পর্যালোচনায় উঠে আসে যে, দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে ভারতীয় ভূখণ্ডকে দীর্ঘমেয়াদি টার্গেট করেছিল বিন লাদেন নেটওয়ার্ক।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগনে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার আগেই ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বাধীন আল-কায়েদার মূল টার্গেটের তালিকায় ছিল ভারত। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও ডিক্লাসিফায়েড গোয়েন্দা নথির তথ্যানুযায়ী, বিশ্বমঞ্চে উপস্থিতি জানান দেওয়ার কৌশল হিসেবে আল-কায়েদা নেটওয়ার্ক দক্ষিণ এশিয়ায় বড় ধরনের হামলার ছক এঁকেছিল, যার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভারতীয় ভূখণ্ড।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, নাইন-ইলেভেন হামলার ঠিক দু'দিন আগে ২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় জোটের (নর্দার্ন অ্যালায়েন্স) প্রধান এবং তালেবানবিরোধী শীর্ষ কমান্ডার আহমদ শাহ মাসুদকে ভুয়া সাংবাদিক সেজে হত্যা করে আল-কায়েদার আত্মঘাতী সদস্যরা। মাসুদকে হত্যার মাধ্যমে বিন লাদেন আফগানিস্তানে নিজেদের অবস্থান নিষ্কণ্টক করে এবং এর পরপরই বিশ্বব্যাপী সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নামে। এই সময়কালেই ভারত ও কাশ্মীর সংক্রান্ত ভূরাজনীতিকে ব্যবহার করে ভারতীয় স্বার্থে আঘাত হানার পরিকল্পনা নথিভুক্ত হয়।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ থেকেই আল-কায়েদা দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের বিস্তার ঘটাতে তৎপর ছিল। বিশেষ করে কাশ্মীরের অস্থিরতাকে পুঁজি করে ভারতের প্রধান শহরগুলো ও কৌশলগত সরকারি স্থাপনায় নাশকতার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছিল। বিন লাদেনের লক্ষ্য ছিল ভারতকে টার্গেট করে ওই অঞ্চলে চরমপন্থী মতাদর্শের ব্যাপক প্রসার ঘটানো।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, নাইন-ইলেভেনের পর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে 'সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ' (ওয়ার অন টেরর) শুরু করলে বিন লাদেনের মূল মনোযোগ সরাসরি আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতে নিবদ্ধ হয়। ফলে ভারতের ওপর পরিকল্পিত হামলার গতিপথ পরিবর্তন হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় আল-কায়েদা এবং তাদের সহযোগী বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর হুমকি পরবর্তী দশকগুলোতেও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে থাকে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার কালবেলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।