আ. লীগকে ফেরাতে সরকারের ভেতরের একটি অংশ ইন্ধন দিচ্ছে: পরওয়ার
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ইন্ধন দিচ্ছে। শুক্রবার ঝিনাইদহে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের মদত ছাড়া নিষিদ্ধ দলের মিছিল করা অসম্ভব। এছাড়া, শেখ হাসিনার দিল্লি অবস্থান ও প্রতিবেশী দেশের ভূমিকাকে বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, গুলশান ও ধানমন্ডিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের ইন্ধন ছাড়া সম্ভব নয়।
- জামায়াতে ইসলামী জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে ৩৮টি লিখিত প্রস্তাব দিলেও সরকার তার একটিও গ্রহণ করেনি বলে তিনি দাবি করেন।
- পরওয়ারের ভাষ্যমতে, দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং প্রতিবেশী দেশ তাকে যে সহায়তা দিচ্ছে, তা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার শুক্রবার ঝিনাইদহে আয়োজিত জেলা কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষা শিবিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের একটি চক্র নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে পুনরায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় করার জন্য ইন্ধন দিচ্ছে। তার মতে, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি এড়িয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ দলের মিছিল হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরওয়ার বলেন, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, দিল্লি সরকার শেখ হাসিনাকে যে সমর্থন দিচ্ছে, তা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। জামায়াত নেতা এটিকে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থী এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেন।
জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামী সরকারের কাছে জ্বালানি সংকট নিরসনে ৩৮টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু সরকার তা আমলে নেয়নি। এছাড়া, বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে তিনি বলেন, ২০০১ সালে জামায়াতের সহযোগিতা ছাড়া বিএনপি সরকার গঠন করতে পারত না, অথচ তারা জামায়াতকে বঞ্চিত করেছে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা দুর্নীতি বা অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর এই বক্তব্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন নিয়ে তাদের এই কঠোর অবস্থান আগামী দিনের রাজনৈতিক মেরুকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, প্রশাসনের ভেতরকার শুদ্ধি অভিযান এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই অভিযোগগুলো নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দ্য ডেইলি স্টার বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।