কলকাতার দুর্গাপূজায় এবার ঘানা ও কঙ্গোর পেশাদার ড্রামাররা স্থানীয় ঢাকীদের সাথে ঢাক বাজিয়ে বিশ্বজনীন সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে মায়াপুরের পুরোহিত ও কলকাতার প্রতিমায় তিন দিনব্যাপী শারদীয় উৎসব উদযাপিত হয়েছে। জার্মানির মিউনিখেও সাবেকিয়ানায় মেতেছেন প্রবাসী বাঙালিরা, যা বিশ্বজুড়ে বাংলার লোকজ সংস্কৃতির প্রসারের প্রতিফলন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কলকাতার মণ্ডপে ঘানা ও কঙ্গো থেকে আসা পেশাদার ড্রামাররা বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢাকের কাঠি হাতে নিয়ে স্থানীয় ঢাকীদের সাথে যৌথভাবে বাদ্য পরিবেশন করেছেন।
- নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী উৎসবে মায়াপুর থেকে আগত পুরোহিত এবং কলকাতা থেকে বিমানে নেওয়া প্রতিমার মাধ্যমে শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে পূজা সম্পন্ন হয়।
- জার্মানির মিউনিখে ২০২৪ সালের শারদীয় উৎসবে সাবেকি ঘরানার প্রতিমা ও লোকজ বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহারে প্রবাসী বাঙালিদের শিকড়ের টান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফুটে উঠেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কলকাতার দুর্গাপূজার মণ্ডপে এবার এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে, যেখানে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢাকের কাঠি হাতে দেখা গেছে আফ্রিকার পেশাদার বাদকদের। ঘানা ও কঙ্গো থেকে আসা এই ড্রামাররা কলকাতার স্থানীয় ঢাকীদের সাথে সুরের মূর্ছনা ছড়িয়েছেন। এই সাংস্কৃতিক বিনিময় কেবল উৎসবের আনন্দই বাড়ায়নি, বরং বাংলার লোকজ বাদ্যযন্ত্রকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুনভাবে পরিচিত করেছে।
শুধু কলকাতাতেই নয়, সুদূর নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডেও এবার সাড়ম্বরে পালিত হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিশেষ আকর্ষণ ছিল কলকাতা থেকে আকাশপথে নেওয়া মা দুর্গার প্রতিমা এবং মায়াপুরের ইসকন মন্দির থেকে আসা অভিজ্ঞ পুরোহিত। অকল্যান্ডের এই উৎসবে নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় আদিবাসী মাওরি সংস্কৃতির সাথে বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের এক অপূর্ব সমন্বয় লক্ষ্য করা গেছে।
ইউরোপের দেশ জার্মানিতেও শারদীয় উৎসবের আমেজ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে মিউনিখের দুর্গাপূজায় সাবেকিয়ানা ও আন্তরিকতার মেলবন্ধনে প্রবাসীরা নস্টালজিয়ায় মেতে ওঠেন। আয়োজকদের মতে, বিদেশের মাটিতে বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতেই এই আয়োজন, যেখানে ঢাকের শব্দ আর ধুনুচি নাচে এক টুকরো বাংলা জীবন্ত হয়ে ওঠে।
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই উৎসবের ব্যাপ্তি প্রমাণ করে যে, দুর্গাপূজা এখন আর কেবল ধর্মীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। এটি একটি বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। আফ্রিকান বাদকদের অংশগ্রহণ থেকে শুরু করে নিউজিল্যান্ড বা জার্মানিতে শাস্ত্রীয় পূজা—সবই বাংলার লোকজ ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।