বিজয়া দশমীতে রাজধানীর ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গোৎসবের শেষ দিনে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জয়া আহসান (শাওন)। ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি ও মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গাকে বিদায়ের আকুল কান্নায় বিষাদের ছায়া নেমে এলেও সিঁদুর খেলা ও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- রাজধানীর ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিজয়া দশমীর ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলায় অংশ নেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ও অভিনেত্রী জয়া আহসান (শাওন)।
- হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
- ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রতিমা বিসর্জন ও সিঁদুর খেলার পাশাপাশি ঢাকের বাদ্য এবং ধর্মীয় কীর্তনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্তিম লগ্নে বিজয়া দশমীতে রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতিতে। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবের শেষ দিনে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। এই আয়োজনে অংশ নেন দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ও অভিনেত্রী জয়া আহসান (শাওন)। তার উপস্থিতি এবং সিঁদুর খেলায় অংশগ্রহণ মন্দির প্রাঙ্গণের উৎসবমুখর পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
পাঁচ দিনব্যাপী এই মহোৎসবের ষষ্ঠী থেকে শুরু হয়ে নবমী পর্যন্ত নানা পূজা-অর্চণা ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর ছিল প্রতিটি মণ্ডপ। দশমীর সকালে বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের পর শুরু হয় বিবাহিত নারীদের সিঁদুর খেলা—যা হিন্দু ধর্মে মা দুর্গার মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যাওয়ার আগের একটি আনন্দঘন ও ঐতিহ্যবাহী আচার। এ সময় নারীরা একে অপরের কপালে সিঁদুর পরিয়ে মঙ্গল কামনা করেন এবং মিষ্টিমুখ করান।
সিঁদুর খেলা ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা সহকারে বুড়িগঙ্গা নদীসহ নির্ধারিত নদীতীরে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। 'শুভ বিজয়া'র শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ও প্রস্থানকে কেন্দ্র করে ভক্তদের চোখে জল আর বিদায়ের সুর বেজে ওঠে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঢাকেশ্বরী মন্দির ও বিসর্জন ঘাটগুলোতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে।
বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এই সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব কেবল পূজার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সকল ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়। জয়া আহসানের মতো শিল্পীদের উপস্থিতি তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত করে, যা সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।