বুধবার প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আইকিউএয়ারের সূচক অনুযায়ী, ১৫৪ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় সপ্তম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা, যা নগরবাসীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত। অন্যদিকে, ৩৮৬ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, যার বায়ুমান ‘দুর্যোগপূর্ণ’। বায়ুদূষণের এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের নয়াদিল্লি ও কলকাতা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ১৫৪ স্কোর নিয়ে ঢাকার বায়ুমান ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছে।
- পাকিস্তানের লাহোর ৩৮৬ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে, যা নাগরিকদের জন্য ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বায়ুমান হিসেবে বিবেচিত।
- তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ভারতের নয়াদিল্লি (২৪৯ স্কোর) এবং কলকাতা (১৮৫ স্কোর)।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবিরাম উন্নয়নমূলক কাজের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন বড় শহরের মতো ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা দিন দিন বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৫৪ স্কোর নিয়ে বিশ্বের ১২৬টি শহরের মধ্যে বায়ুদূষণের তালিকায় সপ্তম অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। বাতাসের এই মান নগরীর সংবেদনশীল তো বটেই, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক বা একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০-তে ‘সহনীয়’, ১০১ থেকে ১৫০-এ ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ এবং ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এছাড়া স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তাকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আজকের তালিকায় ৩৮৬ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, ২৪৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ভারতের নয়াদিল্লি এবং ১৮৫ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় বাতাসে উপস্থিত পাঁচটি প্রধান দূষণ উপাদানের ওপর ভিত্তি করে, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩)। পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং শিল্পকারখানার বর্জ্য অন্যতম।
বায়ুদূষণের এই দীর্ঘমেয়ায়ী নেতিবাচক প্রভাব নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দূষিত বাতাসের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের মতো প্রাণঘাতী রোগের প্রাদুর্ভাব দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই পরিস্থিতি ঢাকাবাসীর জন্য আরও বড় স্বাস্থ্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।