ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ায় উপকূলীয় জেলাগুলোতে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণ ও জেলেদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে এবং বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচল করতে নির্দেশ দিয়েছে।
- ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আঘাত হানার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় এনডিআরএফ মোতায়েন করা হয়েছে।
- ২০১৩ সালের ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’-এর পর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই ঘূর্ণিঝড়টি অত্যন্ত সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে, যা উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে আনার পূর্বাভাস দিয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে দ্রুত ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ায় ভারতের অন্ধ্র ও ওড়িশা উপকূলে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতেও সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও তীব্রতা নিয়ে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা ২০১৩ সালের ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’-এর সাথে তুলনা করছেন। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টি সমুদ্রের উত্তাল জলরাশির ওপর দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (IMD) জানিয়েছে, এটি উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানার সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর ফলে উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলো জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার উপকূলীয় জেলা প্রশাসকদের সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে কিছুটা দূরে থাকলেও এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। জেলেদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং উপকূলীয় সাইক্লোন শেল্টারগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এই ঘূর্ণিঝড়টি কৃষি ও মৎস্য খাতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের আমন ধান ও লোনা পানির চিংড়ি ঘেরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সমুদ্রবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত বহাল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।