৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসনের বিপরীতে কঠোর প্রতিরোধ কৌশল গ্রহণ করেছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডাররা জানিয়েছেন, স্থল আগ্রাসন চালানো হলে মার্কিন বাহিনীকে চরম মূল্য দিতে হবে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তেহরান নতুন করে ভুল হিসাব না করতে পশ্চিমা শক্তিগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আইআরজিসির উচ্চপদস্থ কমান্ডাররা ঘোষণা করেছেন যে, ইরানে কোনো ধরনের স্থল আগ্রাসন চালানো হলে মার্কিন বাহিনীকে ইতিহাসের সবচেয়ে চরম মূল্য দিতে হবে।
- জাতিসংঘে প্রেরিত বিশেষ বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অবিরাম হুমকির’ তীব্র নিন্দা জানিয়ে তেহরান তাদের নতুন করে ভুল হিসাব না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
- ইরানকে দীর্ঘমেয়াদে চাপে রাখার মার্কিন ও পশ্চিমা কৌশল সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে আইআরজিসির সাম্প্রতিক সামরিক পর্যালোচনায় দাবি করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক হুমকির বিপরীতে কঠোর প্রতিরোধ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তেহরানের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের স্থল আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করা হলে মার্কিন বাহিনীকে চরম মূল্য পরিশোধ করতে হবে। বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষা কৌশল সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তরফ থেকে আসা ‘অবিরাম হুমকি’ ও যুদ্ধের আশঙ্কার বিষয়ে জাতিসংঘে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে তেহরান। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মঞ্চে উত্থাপিত অভিযোগে ইরান উল্লেখ করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য পশ্চিমা শক্তিগুলো ধারাবাহিকভাবে উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে কোনো ‘ভুল হিসাব’ করলে তার ফল হবে অত্যন্ত মারাত্মক।
আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডারদের মতে, বিগত বছরগুলোতে ইরানকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখার যে মার্কিন কৌশল নেওয়া হয়েছিল, তা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতার নীতি সত্ত্বেও ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের নিয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের অভিমত, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো ভুল পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এই সংঘাতময় পরিস্থিতির সুদূরপ্রসারী প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিমধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক সংলাপের ওপর জোর দিলেও, তেহরান ও ওয়াশিংটনের বর্তমান অনমনীয় অবস্থান সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার প্রথম আলো-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।