৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"হরমুজ প্রণালিতে চলমান নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সোমবার তেহরানে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে মধ্যস্থতা করতে এবং বড় ধরনের যুদ্ধ এড়াতে মস্কো এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাহীনতার মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধকে দায়ী করেছেন।
- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে সোমবার প্রথমবারের মতো তেহরান সফরে গেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, যেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
- কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক সমুদ্রপথে বাণিজ্য হওয়া জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকটের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। গত সোমবার তেহরানে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। আরাঘচি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধই মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও এই কৌশলগত নৌপথে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম তেহরান সফরে যান রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, এই সফরে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকায়, নতুন করে বড় আকারের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে মস্কো বর্তমানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে চাইছে। এর আগে অক্টোবরের শুরুর দিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
ইউক্রেন সংকটের পর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে মার্কিন হামলার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। বিশ্বের মোট সমুদ্রবাহিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং বিশাল অংশ এলএনজি এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে সরাসরি পড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। মস্কোর মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা সফল হলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার বরফ গলতে পারে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দ্য ডেইলি স্টার বাংলা-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।