ভোটার তালিকা সংশোধন ও এসআইআর ইস্যুতে বিরোধীদের বিরুদ্ধে মাঠে নামছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। আগামী ২ ও ৫ নভেম্বর যথাক্রমে হায়দ্রাবাদ ও হরিয়ানার কার্নেলে 'লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও' শীর্ষক বিশাল পদযাত্রার নেতৃত্ব দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিরোধী দলগুলির তোলা ১৩ কোটি নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ খণ্ডন করে বিজেপি জানায়, এর মধ্যে মৃত, স্থানান্তরিত ও দ্বৈত ভোটার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগামী ২ নভেম্বর হায়দ্রাবাদে এবং ৫ নভেম্বর হরিয়ানার কার্নেলে বিজেপির 'লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও' পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন।
- বিরোধীদের ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার অভিযোগের জবাবে বিজেপি জানিয়েছে, এই তালিকায় ২.৮ কোটি মৃত, ৩ কোটি অনুপস্থিত, ৬.৩ কোটি স্থানান্তরিত এবং ১ কোটি দ্বৈত ভোটার রয়েছে।
- তেলেঙ্গানা বিজেপির সভাপতি এন রামচন্দর রাও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডিকে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের জন্য তাঁর নিজ গ্রাম কোন্দারেড্ডিপল্লিতে যাওয়ার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত চরমে উঠেছে। বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে বিরোধী শিবির যখন ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে, ঠিক তখনই পাল্টা রণকৌশল হিসেবে দেশজুড়ে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের সমাবেশের ঠিক পরপরই মাঠে নামছে গেরুয়া শিবির। এই পাল্টা রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ২ নভেম্বর তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদে এবং ৫ নভেম্বর হরিয়ানার কার্নেলে বিশাল পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে, যার নেতৃত্ব দেবেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। 'লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও' শীর্ষক এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিজেপি মূলত ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের ছড়ানো বিভ্রান্তির কড়া জবাব দিতে চাইছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে জোরালো অভিযোগ করা হয়েছে যে, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে প্রায় ১৩ কোটি বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটারদের বিভ্রান্ত করা এবং দেশের যুবসমাজকে উসকে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ এনেছে বিজেপি। তেলেঙ্গানা বিজেপির সভাপতি এন রামচন্দর রাও এক সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে জানান যে, বিরোধীরা দেশে রাজনৈতিক নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। তিনি তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, তিনি যেন তাঁর নিজের গ্রাম কোন্দারেড্ডিপল্লিতে একসঙ্গে গিয়ে যাচাই করেন যে কতজন প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে বিরোধীদের তোলা ১৩ কোটি ভোটার বাদ পড়ার পরিসংখ্যানের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। দলটির দাবি, এই সংখ্যার মধ্যে এমন সমস্ত ভোটার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন যাঁদের পরিচয় 'অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত এবং দ্বৈত' (ASDD) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২.৮ কোটি ব্যক্তি মৃত, ৩ কোটি ভোটারকে বুথ লেভেল অফিসাররা খুঁজে পাননি বা তাঁরা অনুপস্থিত ছিলেন, ৬.৩ কোটি মানুষ স্থায়ীভাবে অন্য স্থানে চলে গেছেন এবং প্রায় ১ কোটি ভোটারের নাম একাধিক স্থানে নিবন্ধিত ছিল। বিজেপির সাফ কথা, নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই নামগুলি যাচাই করা হয়েছে এবং কোনো প্রকৃত ভোটার বঞ্চিত হলে তাঁরা পুনরায় নিবন্ধনের আবেদন করার পূর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন।
আসন্ন এই রাজনৈতিক পদযাত্রা ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ভারতীয় রাজনীতির সমীকরণকে আরও তীব্র করে তুলেছে। একদিকে যখন কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলি নির্বাচন প্রক্রিয়া ও গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে, অন্যদিকে বিজেপি এই পদযাত্রাগুলির মাধ্যমে জনসমর্থন নিজেদের পক্ষে ধরে রাখার বড়সড় কৌশল নিয়েছে। আগামী নভেম্বরের এই রাজনৈতিক লড়াই যে আসন্ন রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র মেরুকরণ তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।