সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের ৭০০ ই-রিকশার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, নিয়মানুযায়ী প্রত্যেকে কোটা অনুযায়ী সর্বোচ্চ পাঁচটি করে বৈধ নিবন্ধন পাবেন এবং বাকিগুলো অন্যদের নামে নিতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ১ নভেম্বর সচিবালয়ে তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা চলাচল বিধিমালা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন।
- জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের মালিকানাধীন ৭০০ ই-রিকশার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, নিয়ম অনুযায়ী তিনি সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার বৈধ নিবন্ধন পাবেন।
- সরকার পর্যায়ক্রমে বৈধ ই-রিকশাগুলোর জন্য নিবন্ধন প্রদান করবে এবং অবৈধ যানগুলো রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা (ইলেক্ট্রিক রিকশা) নিয়ে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের অংশ হিসেবে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সচিবালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি ই-রিকশা চালক ও মালিকদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, বৈধ বা অবৈধ যেভাবেই হোক বর্তমানে যারা গাড়ি চালাচ্ছেন, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার পর্যায়ক্রমে যাচাই-বাছাই করে এসব যানের জন্য নিবন্ধন প্রদান করবে এবং অবৈধ ও বিশৃঙ্খল যানগুলো রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক আলোচিত একটি রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে আনেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, উত্তরের প্রশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের নামে প্রায় ৭০০টি ই-রিকশা রয়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী কৌতুক ও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলকেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই; তিনিও নিয়মানুযায়ী তার বহর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার বৈধ নিবন্ধন পাবেন। তবে বাকি অটোরিকশাগুলো চালাতে হলে তা অন্য চালক বা মালিকদের নামে নিবন্ধনভুক্ত করতে হবে। সরকারের এই কঠোর অথচ মানবিক নীতি বাস্তবায়িত হলে শহরের যানজট নিরসন এবং চালকদের কর্মসংস্থানের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন বা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়াই চলাচল করে আসছে। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বর্তমান সরকারের এই নতুন বিধিমালা এবং পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে। একই সাথে মালিকানা সীমিতকরণের এই ঘোষণা একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রোধে ভূমিকা রাখবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ চালকরা যেমন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন, তেমনি নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আগামী দিনে নিবন্ধনের এই প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং কোটা পদ্ধতি কতটুকু কঠোরভাবে মানা হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সরকারের এই পদক্ষেপে শহরাঞ্চলের নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।