আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নতুন অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্রে রান্না করা ভাতে প্রতি কেজিতে ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত বিষাক্ত সিসা পাওয়া গেছে। এই ধাতু মানবদেহে প্রবেশ করে স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নীরব হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আইসিডিডিআর,বি ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় নতুন অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে রান্না করা ভাতে প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম সিসার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।
- অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে তাপ ও অম্লীয় খাদ্যের প্রতিক্রিয়ায় বিষাক্ত সিসা সহজেই খাবারের সাথে মিশে মানবদেহের রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে।
- সিসার এই দীর্ঘমেয়াদী বিষক্রিয়া বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের বুদ্ধিমত্তা বিকাশ ও স্নায়বিক স্বাস্থ্যের ওপর অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দৈনন্দিন রান্নার কাজে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিল থেকে খাবারে বিষাক্ত সিসা মিশে যাওয়ার মতো উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল। সম্প্রতি পরিচালিত যৌথ এই গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন অ্যালুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করা ভাতে প্রতি কেজিতে গড়ে ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত সিসার উপস্থিতি রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য চরম মাত্রায় ক্ষতিকারক।
গবেষণায় বলা হয়েছে, বাজারে প্রচলিত অ্যালুমিনিয়ামের বাসনপত্র তৈরিতে প্রায়শই মানহীন ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাত ধাতু বা স্ক্র্যাপ মেটাল ব্যবহার করা হয়। এসব ধাতুতে সিসার মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতি অনেক বেশি থাকে। যখন সাধারণ তাপমাত্রায় এই পাত্রগুলোতে খাবার রান্না করা হয়, তখন পাত্রের গাত্র থেকে ক্ষতিকর সিসা কণা সহজেই খাবার বিশেষ করে ভাত ও তরকারিতে মিশে যায়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, শরীরে সিসা প্রবেশের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। দীর্ঘ সময় ধরে সিসাযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে মানুষের কিডনির ক্ষতি, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্নায়বিক বৈকল্য দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয় এবং তাদের আইকিউ বা বুদ্ধিমত্তা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অ্যালুমিনিয়াম শিল্পের ওপর কঠোর সরকারি তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন গবেষকরা। একই সাথে রান্নার কাজে অ্যালুমিনিয়ামের পরিবর্তে স্টেইনলেস স্টিল বা ক্ষতিকারকতামুক্ত বিকল্প পাত্র ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে নীরব এই বিষক্রিয়া থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।