দীপাবলি উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের হিঙ্গলগঞ্জে বিএসএফের ৭৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ইছামতি নদী ও সীমান্ত এলাকা ঘুরে তিনি দাবি করেন, ওপারে অনুপ্রবেশকারীরা অপেক্ষায় রয়েছে। রাজ্যে কোনো অনুপ্রবেশকারীকে থাকতে দেওয়া হবে না। বিএসএফ ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে ‘সীমা মিত্র সম্মান’ চালুর ঘোষণা দেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- শুভেন্দু অধিকারী হিঙ্গলগঞ্জে বিএসএফের ৭৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং ইছামতি নদীর জলপথ ও সীমান্ত পরিস্থিতি দ্রুতগতির নৌযানে ঘুরে দেখেন।
- সীমান্ত সুরক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আগামী বছর থেকে বিএসএফ, এসএসবি এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সদস্যদের নিয়ে ‘সীমা মিত্র সম্মান’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
- রাজ্যে একজন অনুপ্রবেশকারীকেও থাকতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নিবিড় তল্লাশি অভিযান চলছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দীপাবলি উৎসবের দিনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের হিঙ্গলগঞ্জে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফের ৭৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে জওয়ানদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। রোববার দুপুরে হিঙ্গলগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাডে অবতরণের পর সড়কপথে সীমান্ত ক্যাম্পে পৌঁছান তিনি। পরে ইছামতি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিএসএফের দ্রুতগতির নৌযানে চড়ে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করেন এবং নদীর তীরে বেড়া নির্মাণের বিষয় নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে দূরবীন দিয়ে ওপারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সীমান্তের ওপারে ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় অনেকে জটলা পাকিয়ে আছে। সুযোগ পেলেই তারা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করবে। তবে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে কোনো অনুপ্রবেশকারীকে আশ্রয় দেওয়া হবে না এবং তাদের শনাক্ত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। এছাড়া সীমান্তবর্তী প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বর্তমানে জোরালো তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফ ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি জানান, বিগত সময়ের তুলনায় বর্তমানে রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় অনেক উন্নত হয়েছে। জওয়ানদের মনোবল বাড়াতে তাদের পাশে দাঁড়ানোকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। পরে হিঙ্গলগঞ্জ থানার কালীপুজোর উদ্বোধন শেষে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণীর শততম জন্মবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এই সফরকালে সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ আগামী বছর থেকে ‘সীমা মিত্র সম্মান’ প্রবর্তনের ঘোষণা দেন। বিএসএফ, সশস্ত্র সীমা বল এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বীর সদস্যদের এই পদক প্রদান করা হবে এবং একটি বিশেষ নির্বাচক কমিটির মাধ্যমে বিজয়ীদের নাম চূড়ান্ত করা হবে। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারের এমন উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।