বিশ্বব্যাংকের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কর্মক্ষম জনমিতির সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী ব্যক্তি উপযুক্ত চাকরি না পেয়ে বিকল্প পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ধীরগতির কারণে দেশের এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক সুবিধা উপভোগ করার জন্য মাত্র ১৯ বছর সময় অবশিষ্ট রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যার বিশাল একটি অংশকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মারাত্মক ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
- দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত বা স্নাতক ডিগ্রিধারী তরুণ সমাজ তাদের যোগ্য অনুযায়ী চাকরি না পেয়ে বাধ্য হয়ে অন্য পেশা বা কাজের সাথে যুক্ত হচ্ছেন।
- বিশেষজ্ঞদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বাংলাদেশের হাতে বর্তমান জনমিতিক সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগানোর জন্য মাত্র ১৯ বছর বা এর কাছাকাছি সময়সীমা অবশিষ্ট আছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশের সামনে উপস্থিত সোনালী জনমিতিক সুবিধা বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টির বাজার অত্যন্ত মন্থর, যার ফলে বিপুল পরিমাণ কর্মক্ষম ও তরুণ জনগোষ্ঠী যথাযথ কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে হলে অবিলম্বে কাঠামোগত সংস্কার ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গণ্ডি পেরোনো স্নাতক ডিগ্রিধারীদের প্রায় ৬০ শতাংশই তাদের অর্জিত ডিগ্রির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো পেশায় প্রবেশ করতে পারছেন না। বেকারত্ব এবং উপযুক্ত কাজের অভাবের কারণে এই শিক্ষিত যুবসমাজ বাধ্য হয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত কিংবা ভিন্ন পেশায় জীবিকা নির্বাহ করছে। ফলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে তরুণ জনগোষ্ঠীর যে সর্বাত্মক অবদান রাখার কথা ছিল, তা ব্যাহত হচ্ছে এবং এক ধরনের সুপ্ত মানবসম্পদ অবমূল্যায়িত রয়ে যাচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ ও শ্রম বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য জনমিতিক এই সুযোগ চিরস্থায়ী নয়। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুফল ভোগ করার জন্য দেশটির হাতে মাত্র ১৯ বছরের মতো সময় অবশিষ্ট রয়েছে। এর মধ্যে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব শিল্পায়ন নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে বয়স্ক জনসংখ্যার হার বাড়ার সাথে সাথে বড় ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।
এমতাবস্থায়, শুধু প্রথাগত শিক্ষায় জোর না দিয়ে কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার ঘটানো এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করার কোনো বিকল্প নেই। নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি সময়মতো কার্যকর কৌশল গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে জনমিতিক এই সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।