জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসো জানিয়েছেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করায় জাপানি কোম্পানিগুলো বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী। সোমবার টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আগ্রহের কথা জানান। বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
- তারো আসো বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ হিসেবে উল্লেখ করে জাপানি কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রবল আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেন।
- বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং জাপানের পক্ষে এলডিপি চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরাসহ উভয় দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
জাপান সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সোমবার বিকেলে টোকিওতে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসো। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুসংহত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তারো আসো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
সাক্ষাৎকালে তারো আসো বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেন। তিনি জানান, জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে বিশেষ আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০০৬ সালে জাপান সফরের স্মৃতিচারণ করে দুই দেশের সংসদীয় মৈত্রী লীগের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন। জাপানি প্রতিনিধিদলে দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও এলডিপি চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা এবং ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিসহ একাধিক সিনিয়র সংসদ সদস্য অংশ নেন। উভয় পক্ষই জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাপানি বিনিয়োগের এই আগ্রহ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। এটি কেবল অর্থনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।