২০২৬ সালের কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটকে কেন্দ্র করে প্রার্থী বাছাইয়ে অভিনব 'ড্রপ বক্স' পদ্ধতি গ্রহণ করেছে বিজেপি। সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়সীমায় কলকাতার ২০৯টি আসনের বিপরীতে প্রায় ৪,৫০০ আবেদন জমা পড়েছে। মুরলিধর সেন লেনের দলীয় কার্যালয়ে জমা পড়া এসব আবেদন যাচাই শেষে কালীপূজার পরপরই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন রাহুল সিনহা ও শমীক ভট্টাচার্য।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডের জন্য মোট ৪,৫০০ জন আগ্রহী প্রার্থী বিজেপির ড্রপ বক্সে আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন, যা প্রতি আসনে গড়ে ২১ জন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দেয়।
- মুরলিধর সেন লেনের রাজ্য সদর দপ্তরে সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদনের সময়সীমা নির্ধারিত ছিল, যেখানে শিবপুর বিই কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীরা অংশ নেন।
- বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা নিশ্চিত করেছেন যে, স্ক্রুটিনি শেষে কালীপূজার ঠিক পরেই কলকাতা ও হাওড়া উভয় কর্পোরেশনের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা একসঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
২০২৬ সালের আসন্ন কলকাতা ও হাওড়া পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনতে 'ড্রপ বক্স' পদ্ধতি চালু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সোমবার বিকেল ৫টায় আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়া পর্যন্ত কলকাতার ২০৯টি আসনের বিপরীতে জমা পড়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার আবেদনপত্র। মুরলিধর সেন লেনের দলীয় কার্যালয়ে শেষ মুহূর্তে আবেদনকারীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যা তৃণমূল স্তরে দলের সক্রিয়তা প্রমাণের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এবারের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় সাধারণ কর্মীদের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষিত ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। উদাহরণস্বরূপ, শিবপুর বিই কলেজের একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক কলকাতার ২৮ নম্বর এবং হাওড়ার ৪১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, ড্রপ বক্সে জমা পড়া প্রতিটি আবেদন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে যাতে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ও জনসম্পৃক্ত প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়।
দলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব এই নির্বাচনকে 'ট্রিপল ইঞ্জিন' সরকার গঠনের লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা ও শমীক ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কালীপূজার পরপরই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। রাহুল সিনহা দাবি করেন, হাওড়া ও কলকাতায় এবার বিজেপি নিরঙ্কুশ জয়লাভ করবে এবং উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে মানুষ বিজেপিকেই বেছে নেবে।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে বিজেপি এককভাবে লড়বে নাকি এনসিপিআই-এর মতো দলগুলোর সাথে জোটবদ্ধ হবে। তবে প্রার্থী তালিকায় চমক দেওয়ার মাধ্যমে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে চাপে রাখাই এখন বিজেপির মূল কৌশল। এই বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়া বিজেপির অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক শক্তি ও আসন্ন নির্বাচনে জয়ের আকাঙ্ক্ষাকেই প্রতিফলিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।