দীর্ঘ ১৩ বছরের চরম জনদুর্ভোগ ও প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পর অবশেষে বাতিল হতে চলেছে বহুল আলোচিত ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প। সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাস র্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি ব্যবস্থার পরিবর্তে ওই রুটে একটি আধুনিক ছয় লেনের সড়ক নির্মাণ করা হবে। দ্রুততম সময়ে যানজট নিরসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ১৩ বছর ধরে চলমান ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প অবশেষে বাতিল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
- প্রকল্পটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮১০ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে এবং এর দীর্ঘ মেয়াদে চরম জনদুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে নগরবাসীকে।
- বাতিল হওয়া বিআরটি প্রকল্পের পরিবর্তে ওই নির্দিষ্ট রুটে যান চলাচল সহজ করতে ছয় লেনের একটি আধুনিক সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দীর্ঘ ১৩ বছরের সীমাহীন জনদুর্ভোগ এবং প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করার পর অবশেষে বাতিল করা হচ্ছে বহুল আলোচিত ঢাকা-গাজীপুর বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে গাজীপুরের যোগাযোগ সহজ করার লক্ষ্য নিয়ে এই মেগা প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হলেও নানা অনিয়ম, দীর্ঘসূত্রিতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে এটি জনকল্যাণের পরিবর্তে গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছিল। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিআরটি ব্যবস্থার পরিকল্পনা থেকে সরে এসে এখন সেখানে ছয় লেনের একটি প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মূলত ২০১২ সালে অনুমোদিত এই বিআরটি প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় দফায় দফায় সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ানো হয়েছিল। প্রকল্পের আওতায় আধুনিক বাস চলাচলের কথা থাকলেও ধীরগতির নির্মাণকাজ, রাস্তায় সৃষ্ট বড় বড় গর্ত এবং বর্ষার জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ার পরও প্রকল্পের মূল সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়নি। এই বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা বারবার প্রকল্পটি পুনর্মূল্যায়নের তাগিদ দিয়ে আসছিলেন।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিআরটি লাইনের জটিল প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার চেয়ে সড়ক প্রশস্তকরণ অনেক বেশি কার্যকর হবে। প্রস্তাবিত ছয় লেনের এই সড়ক নির্মিত হলে সাভার, টঙ্গী ও গাজীপুর অঞ্চলের লাখ লাখ যাত্রীর যাতায়াত সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ঢাকা প্রবেশপথের দীর্ঘদিনের তীব্র ট্রাফিক জ্যামের চিরস্থায়ী সমাধান মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই রূপান্তরমূলক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবহন খাতে মেগা প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতার সংস্কৃতিতে একটি বড় পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সীমিত বাজেটের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে দ্রুত জনসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। সাধারণ commuters ও পরিবহন মালিকরাও সরকারের এই বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।