সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে সিঁদুর খেলা ও দেবী দুর্গার বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা। ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি আর বিষাদের সুরের মধ্য দিয়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যাচ্ছেন দেবী। দেশের বিভিন্ন মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিজয়া দশমীর দিনে দেশের বিভিন্ন মন্দিরে ও মণ্ডপে ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলায় অংশ নেন নারী ভক্তরা।
- অশ্রুসিক্ত নয়নে ঢাকের বাদ্য ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে নির্দিষ্ট ঘাটে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপনে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আজ বিজয়া দশমী, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপনী দিন। মণ্ডপে মণ্ডপে এখন বিষাদের সুর, কারণ মা দুর্গার মর্ত্যে আগমন শেষে আবার কৈলাসে ফিরে যাওয়ার পালা। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে শুরু হয় বিহিত পূজা এবং দর্পণ বিসর্জন। এর মাধ্যমেই ঘটে দেবী দুর্গার মর্ত্যলীলার অবসান। এই বিশেষ দিনে ভক্তদের মাঝে বিরাজ করে এক মিশ্র অনুভূতি—আনন্দ ও বেদনার অপূর্ব সমন্বয়।
বিজয়া দশমীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো বিবাহিত নারীদের সিঁদুর খেলা। দেবীর চরণে সিঁদুর অর্পণ শেষে ভক্তরা একে অপরের কপালে সিঁদুর পরিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন এবং আগামী বছর আবার দেবীর আগমনের প্রার্থনা জানান। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন নদ-নদী, পুকুর ও জলাশয়ের ঘাটে ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে শান্তির বারতা নিয়ে প্রতিমা জলে ভাসানো হয়।
ধর্মীয় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। দেশের প্রতিটি মণ্ডপ ও বিসর্জন ঘাটে অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদযাপিত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও বিভিন্ন মন্দিরের পরিচালনা কমিটি সার্বিক সহযোগিতার জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল একটি ধর্মীয় অনুুষ্ঠানই নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা দেশের সব মানুষের মধ্যে অটুট সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন তৈরি করে। বিজয়া দশমীর বিজয়ের মধ্য দিয়ে সমাজে অন্যায় ও অসুরের বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের জয় হোক—এই কামনাই করেছেন দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো পাঁচ দিনের এই মহোৎসব, এখন কেবলই আগামী বছরের শারদীয় দুর্গোৎসবের অপেক্ষা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।