বিজয়া দশমীতে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ দেশের মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীকে সিঁদুর ছুঁয়ে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব। বুধবার (২১ অক্টোবর) সধবা নারীরা স্বামীর মঙ্গল কামনায় সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী, এদিন দুপুর ৩টায় বিজয়া শোভাযাত্রা শেষে সদরঘাটের ওয়াইজঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বিবাহিত নারীরা দেবী দুর্গার চরণ ছুঁয়ে সিঁদুর খেলার ঐতিহ্যবাহী আচারে অংশ নেন।
- মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর দুপুর ৩টায় বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয় এবং সদরঘাটের ওয়াইজঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
- সধবা নারীরা স্বামীর দীর্ঘায়ু ও সংসারের সুখ-শান্তির কামনায় সিঁদুর পরলেও অবিবাহিত তরুণীরাও আনন্দ-উৎসবে সামিল হয়ে হাত ও গালে সিঁদুর মেখে মাকে বিদায় জানান।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মর্ত্যলোক ছেড়ে স্বর্গলোকে দেবীর প্রস্থানের মধ্য দিয়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) সম্পন্ন হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। বিজয়া দশমীর সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ দেশের প্রতিটি মণ্ডপে ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। লাল ও সাদা শাড়ি পরে আসা অগণিত নারী দেবীকে সিঁদুর ছুঁইয়ে বিদায়ের বিষাদকে ভুলে থাকার আনন্দে মেতে ওঠেন। ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি আর নাচ-গানে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রতিটি পূজামণ্ডপ চত্বর।
শাস্ত্রীয় বিধান ও প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী, বিজয়া দশমীর অন্যতম আকর্ষণ হলো ‘দেবী বরণ’ ও সিঁদুর খেলা। বিবাহিত নারীরা দেবীকে সিঁদুর, পান ও মিষ্টি অর্চণ করার পর নিজেদের সিঁথিতে সিঁদুর পরেন এবং একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। এই রীতির মূল তাৎপর্য হলো স্বামী ও পরিবারের মঙ্গল কামনা এবং আগামী বছর দেবী যেন আবার শাঁখা-সিঁদুর নিয়ে মর্ত্যে ফিরে আসেন, সেই প্রার্থনা করা। তবে এই উৎসবে বয়সের বা বিবাহিত-অবিবাহিতর কোনো ভেদাভেদ থাকে না; অবিবাহিত তরুণীরাও হাত ও গালে সিঁদুর মেখে আনন্দ উৎসবে শামিল হন।
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজা দিতে আসা ভক্ত ও তরুণীদের মাঝে ছিল উৎসবের আমেজ। দেবীকে বিদায় জানানোর আগে চলে মিষ্টিমুখ ও আনন্দ উদযাপন। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিঁদুর খেলা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার দুপুর ৩টায় ঐতিহাসিক বিজয়া শোভাযাত্রা শুরু হয়। এরপর পুরান ঢাকার সদরঘাটের ওয়াইজঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে পাঁচ দিনব্যাপী এই মহামিলনোৎসবের।
শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল একটি ধর্মীয় অনুুষ্ঠান নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য প্রতীক। জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এই উৎসব সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটলেও ভক্তরা এখন থেকে আগামী বছরের শরৎকালের অপেক্ষায় দিন গণনা শুরু করবেন, এই প্রত্যাশায় যে দেবী আবার পোলক-মর্ত্যে ফিরে আসবেন।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।