প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় এবং ১৪ বছরের চরম জনদুর্ভোগের পর ঢাকা-গাজীপুর বাস র্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে সরকার। দীর্ঘসূত্রিতা ও ব্যর্থতার জেরে প্রকল্পটি বাতিল করে এখন ওই রুটটিকে ছয় লেনে রূপান্তরের নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স বা বিআইপি এই বাতিলের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় এবং ১৪ বছরের দীর্ঘ ভোগান্তির পর বিতর্কিত ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প অবশেষে বাতিল করা হয়েছে।
- প্রকল্পটি বাতিলের পর ঢাকা-গাজীপুর রুটটিকে আধুনিক ছয় লেন সড়কে রূপান্তরের নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার।
- বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স বা বিআইপি জনগুরুত্বপূর্ণ এই বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানিয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে চলা চরম জনদুর্ভোগ ও প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা অপচয়ের পর অবশেষে বহুল আলোচিত ঢাকা-গাজীপুর বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প সম্পূর্ণ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘসূত্রিতা, নিম্নমানের নির্মাণকাজ এবং অব্যবস্থাপনার কারণে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখার আগেই মুখ থুবড়ে পড়ে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে এখন এই রুটটিকে সরাসরি ছয় লেনে উন্নীত করার একটি নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
২০০৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের বিভিন্ন ধابی নানা অনিয়ম এবং বারবার সময় ও ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিক প্রাক্কলন ছাড়িয়ে ব্যয় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকায় পৌঁছালেও কাজের অগ্রগতি ছিল অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। এর ফলে প্রতিদিন এই রুটে যাতায়াতকারী লাখ লাখ মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, যা রাজধানী ও শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছিল।
প্রকল্প বাতিলের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) জানায়, কোনো সুনির্দিষ্ট বিকল্প ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করে মেগা প্রকল্প বাতিল করা হঠকারিতা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক দায় চাপিয়ে এর সঙ্গে জড়িত প্রকৌশলী, পরামর্শক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এড়িয়ে যাওয়া কোনোভাবেই সমীচীন নয়।
এই প্রকল্প বাতিল এবং নতুন ছয় লেন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পরিবহন খাতের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মেগা প্রকল্প গ্রহণের আগে ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাই আরও কঠোর করা উচিত এবং প্রতিটি ব্যর্থতার জন্য সুনির্দিষ্ট দায় নির্ধারণ করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা এভাবে অপচয় না হয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।