দুর্গাপূজা ২০২৪-এর উৎসবমুখর পরিবেশে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তত ৫৩টি অপতথ্য বা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল এ ধরনের ভুয়া তথ্য ও পুরোনো ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাইবার ক্রাইম ইউনিট এসব অপতৎপরতা রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- দুর্গাপূজার সাত দিনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোট ৫৩টি সুনির্দিষ্ট অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের উদ্দেশ্যে পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার ভিডিও নতুন বলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
- অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল ও ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের সাইবার przestr-এ ব্যাপক অপপ্রচারের ঘটনা ঘটেছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অন্তত ৫৩টি মিথ্যা তথ্য, গুজব এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পুরোনো বা ভিন্ন ঘটনার ছবি ও ভিডিও বর্তমান পূজামণ্ডপের ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে এই অপতথ্যগুলো ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চালায়। বিশেষ করে ফেসবুক, ইউটিউব এবং টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে উত্তেজনা সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হয়। এর আগেও বিভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসবে এ ধরনের সাইবার হামলা ও গুজব রটানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার সাপোর্ট উইং এবং দেশের প্রধান ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে মাঠে নামে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি আনসার, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকার পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ফেসবুক আইডি ও পেজ শনাক্ত করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য যাচাই না করে শেয়ার না করার মানসিকতাই এ ধরনের অপপ্রচারের স্থায়ী সমাধান দিতে পারে। দুর্গাপূজা চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকারের নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।