চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী স্বৈরাচারের মতো নিজেদের বিদায়ের পথেই হাঁটছে। নির্বাচনে দেওয়া ৩১ দফা ও গণভোটের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে প্রশাসক নিয়োগ ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার গণতান্ত্রিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করছে বলে বিরোধী নেতারা সতর্কবার্তা দেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চট্টগ্রাম লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র বহাল রাখা ও প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও গণভোটের রায় লঙ্ঘন করছে।
- এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ অভিযোগ করেন, সরকার গঠনের ৬ মাসে ১ লাখ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে ১ লাখ মানুষ বেকার হয়েছে এবং ঋণখেলাপিতে দেশ শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছেছে।
- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে জানান, গণভোটের জনরায় উপেক্ষা করা হলে জনগণ অতীতের মতো রাজপথে তীব্র গণআন্দোলনে নামবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান সরকার পূর্বসূরিদের মতো নিজেদের বিদায়ের পথেই অগ্রসর হচ্ছে। শনিবার রাতে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে তিনি বলেন, সরকার পতনের লক্ষ্যে বিরোধী দলগুলো আন্দোলন শুরু না করলেও সরকারের নিজস্ব প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নীতিভ্রষ্ট কর্মকাণ্ড তাদের অনিবার্য পতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়া নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা ইশতেহার ও গণভোটের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে স্থানীয় প্রশাসনে দলীয় লোক বসানো হচ্ছে বলে তিনি কঠোর সমালোচনা করেন।
সমাবেশে জামায়াত আমির আরও উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়রের দায়িত্বে থাকার প্রক্রিয়া স্পষ্টতই গণতন্ত্রের পরিপন্থী এবং প্রশাসনিক ফ্যাসিবাদের বহিঃপ্রকাশ। নির্বাচনের ছয় মাস অতিক্রান্ত হলেও সরকারি দল তাদের দেওয়া গণভোটের ‘হ্যাঁ’ রায়ের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেনি। সমাজের সর্বস্তরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতির বিপরীতে বিভিন্ন জায়গায় দলীয় প্রশাসক বসিয়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে অকার্যকর করা হচ্ছে।
সমাবেশের সভাপতি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ক্ষমতাসীনদের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, সরকার ছয় মাসে এক লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিলেও উল্টো সমসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে এবং দেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলাপি ঋণে শীর্ষ তালিকায় পৌঁছেছে। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের রায় উপেক্ষার পরিণতি যেমন মুক্তিযুদ্ধ ছিল, তেমনি বর্তমান গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ করা হলে রাজপথে পুনরায় গণবিস্ফোরণ ঘটবে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরকারের একক রাজনৈতিক আধিপত্যের সমালোচনা করে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে অবিলম্বে অর্থবহ সংলাপের আহ্বান জানান। তিনি সংসদীয় কার্যক্রমে জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষুণ্ণ রাখার তাগিদ দেন। সার্বিকভাবে বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা হুঁশিয়ারি দেন যে, জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন না করে একতরফা দেশ পরিচালনা অব্যাহত রাখলে সরকার অচিরেই তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটে পড়বে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।