বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সঙ্কট থাকবে না, তা হতে পারে না
৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে ব্যাংক রেজুলেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনায় বিএনপি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের সংকট এবং দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির হার বৃদ্ধি পায়। তার বক্তব্যে সংসদে হট্টগোল সৃষ্টি হলে স্পিকার শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার দাবি অনুযায়ী, বিএনপি সরকারের আমলে ঋণখেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
- ব্যাংক রেজুলেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এর ১৮-ক ধারা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যেখানে বিরোধী দলের অভিযোগ, এই বিলের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো পুরোনো মালিকদের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
- সংসদের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সংসদের আচরণ আওয়ামী লীগ আমলের চেয়েও খারাপ, যেখানে বিরোধী দলের বক্তব্যে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বুধবার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে ব্যাংক রেজুলেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিএনপি সরকারের অতীত কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকা মানেই গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের তীব্র সংকট এবং দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির মহোৎসব। তার ভাষ্যমতে, বিএনপি সরকারের চরিত্রই এমন যে, তাদের শাসনামলে দরিদ্র কৃষকদের সার কারখানায় গিয়ে সার লুট করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ব্যাংক রেজুলেশন বিলের বিতর্কিত ১৮-ক ধারা। রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন যে, সংসদের অধিকাংশ সদস্যই ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত এবং নির্বাচনের আগে আইনি মারপ্যাঁচে তালিকা থেকে নাম কাটিয়ে নির্বাচন শেষে পুনরায় ঋণখেলাপি হওয়ার সংস্কৃতি দেশে জেঁকে বসেছে। তিনি এই বিলের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর মালিকানা পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বক্তব্য প্রদানের সময় সরকারি দলের সদস্যদের হট্টগোলের মুখে পড়ে রুমিন ফারহানা সংসদের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদের পরিবেশ আওয়ামী লীগ আমলের চেয়েও খারাপ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সদস্যদের শান্ত থাকার নির্দেশ দেন। স্পিকার স্পষ্টভাবে জানান, কোনো সংসদ সদস্যের বক্তব্যে দ্বিমত থাকলে তা পরবর্তী সময়ে খণ্ডন করা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি, কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা দেওয়া অনভিপ্রেত।
অন্যদিকে, এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন ব্যাংক রেজুলেশন বিল সংশোধনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি জানান, বিরোধী দলের দাবির প্রেক্ষিতে বিতর্কিত ১৮-বি ধারা বাতিলের উদ্যোগ আর্থিক খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে সামগ্রিকভাবে এই বিল এবং সংসদীয় বিতর্ক দেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা আগামী দিনে দেশের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক নয়া দিগন্ত-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।