বিজয়া দশমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলা ও বিশেষ আরতির মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন। দেবী প্রতিমা বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গে সমাপ্তি ঘটল পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের। মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে গেলেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। অশ্রুসজল নয়নে ভক্তরা আগামী বছর আবার তাঁর মর্ত্যে আগমনের প্রার্থনা করেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিজয়া দশমীর দিনে প্রথা অনুযায়ী নারী ভক্তরা দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন ও সিঁদুর খেলায় অংশ নেন এবং একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে মঙ্গল কামনা করেন।
- পূজা, পুষ্পাঞ্জলি ও ধুনুচি নাচের সমাপনপর্ব শেষে নির্ধারিত ঘাট ও জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
- পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির মধ্য দিয়ে ভক্তরা শান্তি, সম্প্রীতি ও মর্ত্যে দেবীর পুনরায় আগমনের প্রার্থনা জানান।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
উৎসবমুখর পরিবেশ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপনী দিন পালিত হয়েছে। বিজয়া দশমীর সকালে মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ পূজা, অর্চণা এবং পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোক থেকে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দিনভর নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী প্রতিমার সামনে সমবেত হন।
বিজয়া দশমীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল বিবাহিত নারীদের দেবী দুর্গাকে সিঁদুর নিবেদন এবং একে অপরকে সিঁদুর মাখানো। এই প্রথার মাধ্যমে ভক্তরা দেবীর চরণের সিঁদুর নিজেদের কপালে ও সিঁথিতে লাগিয়ে সৌভাগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। এছাড়া ঢাকের বাদ্য, কাঁসর এবং ধুনুচি নাচে মুখর হয়ে ওঠে প্রতিটি পূজামণ্ডপ। ভক্তদের চোখে ছিল দেবীকে বিদায় জানানোর বিষাদের ছায়া।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগেই শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রা। দেশের বিভিন্ন নদী, পুকুর ও জলাশয়ের ঘাটে হাজার হাজার ভক্ত সমবেত হন। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা বিসর্জনের কাজ সম্পন্ন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কান্নার রোল আর 'শুভ বিজয়া'র শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে এই বাৎসরিক মহোৎসবের।
শারদীয় দুর্গোৎসবের এই বিজয়া দশমী কেবল বিদায়ের দিন নয়, এটি সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার এক অনন্য বার্তা বহন করে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের অংশগ্রহণে এই উৎসব বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভক্তদের বিশ্বাস, অসুর বিনাশী দেবী দুর্গার এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে সমাজে অশুভ শক্তির পতন ঘটে এবং সত্য ও সুন্দরের জয় হয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।