আজ বিজয়া দশমীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটছে। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও মায়ের চরণে সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে বইছে বিদায়ের সুর। প্রতিমা বিসর্জনের সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এই আনন্দঘন উৎসব, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিজয়া দশমীর দিন সকালে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন ও সিঁদুর খেলায় অংশ নেন নারী ভক্তরা।
- ঢাক-ঢোল ও শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে মর্ত্য থেকে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
- প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটছে আজ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আজ বিজয়া দশমী, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপনী দিন। আনন্দ আর বিষাদের মিশ্রণে মণ্ডপে মণ্ডপে এখন কেবলই বিদায়ের সুর। গত শুক্রবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে যে উৎসবের সূচনা হয়েছিল, আজ প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে তার পূর্ণতা পাচ্ছে। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে ভক্তদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
এদিন সকালে দেবীর বিহিত পূজা এবং দর্পণ বিসর্জনের পর শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা। বিবাহিত নারীরা মায়ের চরণে সিঁদুর নিবেদন করেন এবং একে অপরের কপালে সিঁদুর মাখিয়ে দেবী দুর্গার মর্ত্যলোক ছাড়ার দিনে মঙ্গল কামনা ও সৌভাগ্য প্রার্থনা করেন। এ সময় ঢাকের বোল, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রতিটি পূজা প্রাঙ্গণ।
পূজা উদযাপন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শোভাযাত্রাসহ নির্ধারিত নদী বা জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ, র্যাব এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
উৎসবের সমাপ্তি হলেও এর অন্তর্নিহিত বাণী—সত্য ও সুন্দরের জয় এবং অশুভ শক্তির বিনাশ—মানবজীবনে চিরস্থায়ী হোক, এমনটাই প্রত্যাশা ভক্ত ও আয়োজকদের। প্রতিমা বিসর্জনের পর বিজয়ের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে আগামী বছরের শারদীয় দুর্গোৎসবের আগ পর্যন্ত অপেক্ষার পালা শুরু হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।