আজ বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটছে। দেশজুড়ে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা। দেবী দুর্গার মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাশে গমনের দিনে অশ্রুসিক্ত নয়নে ভক্তরা বিদায় জানাচ্ছেন। সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিসর্জন সম্পন্ন হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিজয়া দশমীর দিনে আজ দেশের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ও নদীর ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হচ্ছে।
- শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় এবং দেবীকে সিঁদুর নিবেদনের প্রথা পালিত হয়েছে।
- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত ও বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আজ বিজয়া দশমী। দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের। গত ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে যে উৎসবের সূচনা হয়েছিল, আজ তা প্রতিমা বিসর্জনের পঞ্জিকামাফিক নির্দিষ্ট তিথিতে সমাপ্ত হচ্ছে। দেশের প্রতিটি পূজা মণ্ডপে এখন বিষাদের সুর বাজছে, কারণ দেবী আবার ফিরে যাচ্ছেন তাঁর স্বামীালয় কৈলাশে।
উৎসবের শেষ দিনটিতে মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকালে দর্পণ বিসর্জনের পর নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন করেন এবং একে অপরকে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। এটি বাঙালি হিন্দুর সংস্কৃতির এক অনন্য রূপ, যেখানে আনন্দ ও বিষাদের এক অদ্ভুত মিশ্রণ ঘটে। ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি আর কোলাহলের মধ্য দিয়ে শেষ হয় মহানবমী ও দশমীর আরতি।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে রেকর্ড সংখ্যক মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রতিটি মণ্ডপে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পালন করেছেন।
প্রতিমা বিসর্জনের জন্য রাজধানী ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে টার্মিনাল ঘাটসহ দেশের বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী দলগুলোও বিসর্জন শোভাযাত্রা ও ঘাটের নিরাপত্তা রক্ষায় সক্রিয় রয়েছে। এই উৎসব দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।