বিজয়া দশমীর মাধ্যমে আজ সমাপ্তি ঘটছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে স্বামীগৃহে ফিরে যাবেন দেবী দুর্গা। গত ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে শুরু হওয়া ৫ দিনব্যাপী এই উৎসবে দেশজুড়ে ৩২ হাজারেরও বেশি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চলতি বছরে দেশের ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনা ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে।
- আজ বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার মর্ত্যলোক ত্যাগ করে কৈলাসে স্বামীগৃহে প্রত্যাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
- সনাতন ধর্মের শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী সিঁদুর খেলা, দেবী বন্দনা এবং শান্তি জলের মধ্য দিয়ে ভক্তরা বিদায় জানান মাকে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
শুভ বিজয়ার মাধ্যমে আজ শেষ হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। গত ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর বোধন ও ঘটস্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া পাঁচ দিনব্যাপী এই আনন্দযজ্ঞের আজ ইতি ঘটছে। বিজয়া দশমীর নির্ধারিত তিথিতে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। অশ্রুসিক্ত নয়নে ভক্তরা দেবীকে মর্ত্য থেকে কৈলাসে বিদায় জানাচ্ছেন।
চলতি বছর দেশজুড়ে ৩২ হাজার ১৬৮টি পূজামণ্ডপে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পূজা উদযাপন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে প্রতিটি মণ্ডপে নেওয়া হয়েছিল তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।
বিজয়া দশমীর সকালে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর পূজা, অর্ঘ্যদান এবং দর্পণ বিসর্জনের পর শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা। বিবাহিত নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর অর্পণ করে নিজেদের ও পরিবারের মঙ্গল কামনার পাশাপাশি একে অপরকে সিঁদুরে রাঙিয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন। এছাড়া ভক্তরা মিষ্টিমুখ করিয়ে একে অপরকে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, যা আবহমান বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মেলবন্ধনের এক অনন্য রূপ ফুটিয়ে তোলে।
দুর্গোৎসবের এই সমাপনী দিনে নদী বা জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে সকল আনুষ্ঠানিকতা। শান্তি শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা ঘাটে নিয়ে যাওয়া এবং তা জলে ভাসানোর সময় বাজবে বিজয়ার বিষাদের সুর। তবে প্রতি বছরের মতো এবারও এই উৎসব দেশের মানুষের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি এবং শান্তি বজায় রাখার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।