নিখোঁজ হওয়ার পরদিন গত বুধবার তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট থেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ। গত ২৭শে অক্টোবর উত্তরার বাসা থেকে বের হয়ে তিনি আর ফেরেননি। সর্বশেষ তার সঙ্গে থাকা শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে নিহতের নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত ২৭শে অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ উত্তরার বাসায় এসে তাহসিফ সাউরিকে ডেকে নিয়ে যান এবং সিসিটিভি ফুটেজে তাদের দুটি আলাদা মোটরসাইকেলে বের হতে দেখা যায়।
- তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোড থেকে শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে নিহতের নম্বরপ্লেটবিহীন পরিত্যক্ত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
- ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পিবিআই, গোয়েন্দা পুলিশ ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ও দ্বীপের জবানবন্দিকে প্রধান ভিত্তি ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৭শে অক্টোবর উত্তরার বাসা থেকে 'ছোট ভাই' পরিচয়ে শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের ডাকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তিনি। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন বুধবার বিকেলে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকেই নিহতের মোটরসাইকেলের অবস্থান ও শেষ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার গতিবিধি নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গোয়েন্দা পুলিশ ও নৌ পুলিশ যৌথভাবে এই ঘটনার ছায়া তদন্ত করছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোড থেকে শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে দ্বীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুরাগ নদের কাছাকাছি টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি নম্বরপ্লেটবিহীন পরিত্যক্ত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়, যা নিহত তাহসিফ সাউরির বলেই নিশ্চিত করেছে পিবিআই।
শুক্রবার সকালে পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর সৈয়দ সাজেদ রহমান গণমাধ্যমকে জানান, দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে এবং তার দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ২৭শে অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে দুজন আলাদা মোটরসাইকেলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। কেন তারা মাজার বস্তি এলাকায় এসেছিলেন কিংবা তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, লোকেশন ডেটা এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এদিকে তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর পেছনে রাজনৈতিক কোনো যোগসূত্র বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়েও জনমনে আলোচনা চলছে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় বিমান সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রচারের অভিযোগ অতীতে অস্বীকার করেছিলেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং দ্বীপের জবানবন্দি পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।