৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং সম্ভাব্য পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় টানা ২৩ মাস ধরে ব্যাপক হারে স্বর্ণ কিনছে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (পিবিওসি)। সেপ্টেম্বরে ২৩ টন ক্রয়ের পর দেশটির স্বর্ণের মজুত দাঁড়িয়েছে ২,৪১০ টনে, যা তাদের মোট রিজার্ভের ৮.৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ নাগরিকেরাও সঞ্চয়ের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণ কিনছেন।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিবিওসি) সেপ্টেম্বরে প্রায় ২৩ টন স্বর্ণ কিনেছে, যার ফলে দেশটির ঘোষিত মোট স্বর্ণের মজুত দাঁড়িয়েছে ২,৪১০ টনে এবং মোট রিজার্ভে এর অংশ ৫.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮.৫ শতাংশ হয়েছে।
- ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা বিশ্ব কর্তৃক রাশিয়ার ৩০ হাজার কোটি (৩০০ বিলিয়ন) ডলারের সম্পদ জব্দ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড সরকারি ঋণের কারণে বেইজিং ডলার-নির্ভরতা দ্রুত কমিয়ে আনছে।
- চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, অভ্যন্তরীণ শেয়ারবাজার ও আবাসন খাতের মন্দা ও অনিশ্চয়তার কারণে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সাধারণ চীনাদের স্বর্ণের বার ও মুদ্রা কেনার পরিমাণ ২৮.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে মার্কিন ডলারের ওপর অতি-নির্ভরতা কমাতে এবং সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কিনছে চীন। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিবিওসি) টানা ২৩ মাস ধরে স্বর্ণের মজুত বাড়ানোর এই ধারা বজায় রেখেছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরেই দেশটি প্রায় ২৩ টন স্বর্ণ কিনেছে, যা ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এক মাসে তাদের সর্বোচ্চ ক্রয়। এর মাধ্যমে চীনের ঘোষিত মোট স্বর্ণ মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪১০ টনে, যা দেশটির মোট সরকারি রিজার্ভের ৮ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের এই আগ্রাসী স্বর্ণ ক্রয়ের নেপথ্যে প্রধানত দুটি কারণ সক্রিয় রয়েছে—ভূরাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানো এবং মার্কিন অর্থনৈতিক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাওয়া। ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশে থাকা প্রায় ৩০ হাজার কোটি (৩০০ বিলিয়ন) ডলারের সম্পদ জব্দ করে। এই নজির বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর জন্য বড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের নীতিনির্ধারকেরা আশঙ্কা করছেন, তাইওয়ান কিংবা বাণিজ্যিক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বড় ধরনের কোনো সংঘাত তৈরি হলে বিদেশে থাকা তাদের ডলারভিত্তিক সম্পদও একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে। নিজ দেশের ভল্টে সংরক্ষিত স্বর্ণ কোনো বিদেশি সরকারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসে না বলেই এটিকে সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প ভাবছে বেইজিং।
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টভিত্তিক কমার্জব্যাংকের পণ্যবাজার গবেষণা প্রধান থু লান নগুয়েন বিষয়টিকে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ—যা ইতিমধ্যে রেকর্ড ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে—ডলারের দীর্ঘমেয়াদি মূল্যের স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। মার্কিন কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী এক দশকে দেশটির ঋণ জিডিপির ১২০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বড় অঙ্কের অর্থ আটকে না রেখে স্বর্ণের মতো সার্বভৌম সম্পদে রিজার্ভ বৈচিত্র্যময় করাই চীনের কৌশল।
শুধু রাষ্ট্রযন্ত্রই নয়, চীনের সাধারণ নাগরিক এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও স্বর্ণ ক্রয়ের ব্যাপক হিড়িক পড়েছে। চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই দেশটিতে স্বর্ণের বার ও মুদ্রা কেনার হার ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ আবাসন খাতের সংকট এবং শেয়ারবাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে সাধারণ মানুষ তাদের সঞ্চয়ের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ বেছে নিচ্ছেন। বিশ্ববাজারে সাময়িক দরপতন সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ব্যক্তিপর্যায়ের এই যৌথ চাহিদার কারণে বৈশ্বিক স্বর্ণের বাজারে চীনের প্রভাব দিন দিন আরও সুসংহত হচ্ছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার bd-pratidin.com-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।