৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৫ ডলার ১২ সেন্টে নেমে এসেছে, যা সপ্তাহজুড়ে ০.৭ শতাংশ পতন নির্দেশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং সেপ্টেম্বরে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় মূল্যবান ধাতুটির দাম আরও কমার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- আন্তর্জাতিক বাজারে গত শুক্রবার স্পট স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৫ ডলার ১২ সেন্টে নেমে আসে এবং সপ্তাহজুড়ে এর দাম কমেছে ০.৭ শতাংশ।
- যুক্তরাষ্ট্রের ফেডের সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কার কারণে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের চেয়ে অন্য লাভজনক সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দাম হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ।
- সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে বলে প্রায় ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক bullion বাজারে স্বর্ণের দামে ফের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৫ ডলার ১২ সেন্টে নেমে আসে। এর ফলে পুরো সপ্তাহজুড়ে এই মূল্যবান ধাতুটির দাম কমেছে প্রায় শূন্য দশমিক সাত শতাংশ। তবে এর বিপরীতে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য শূন্য দশমিক সাত শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯৮ ডলার ২০ সেন্টে পৌঁছেছে। বাজারে এই মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেও সামগ্রিক প্রবণতা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্বর্ণের বাজার মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সূচক এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) মুদ্রানীতির ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরে উৎপাদক পর্যায়ে মূল্য সাড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃদ্ধিতে পৌঁছেছে এবং একই সাথে ভোক্তা পর্যায়েও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। টিডি সিকিউরিটিজের বৈশ্বিক কমোডিটি কৌশল বিভাগের প্রধান বার্ট মেলেক জানিয়েছেন, স্বর্ণের দাম বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওঠানামা করলেও তা নিম্নমুখী সমর্থনসীমার দিকে ঝুঁকছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনার অভাবেই বাজারে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হলেও সুদের হার বাড়লে এর আকর্ষণ হ্রাস পায়। কারণ স্বর্ণ থেকে কোনো নিয়মিত সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হলেও আগামী ডিসেম্বরে তা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন প্রায় ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারী। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ বিদ হামাদ হুসেইন মন্তব্য করেছেন যে, বছরের বাকি সময়জুড়ে ফেডের কঠোর মুদ্রানীতির কারণে স্বর্ণের দাম আরও কিছুটা হমিত হতে পারে।
তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বর্ণের দাম নিশ্চিতভাবেই কমবে এমনটি বলা যায় না। বাজারের পরবর্তী গতিপথ সম্পূর্ণভাবে ফেডের সুদের হারসংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, মার্কিন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বিনিময় হার এবং সামগ্রিক বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন অর্থনৈতিক ডেটার ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও স্থানীয় বাজারেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার bvnews24-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।