এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২ ডিসেম্বর থেকে সম্পূরক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের আলোচনা চলছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভর্তি প্রক্রিয়া সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব শিক্ষার্থীর চলতি শিক্ষাবর্ষেই ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৪,২২,৯০৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২ ডিসেম্বর সম্পূরক পরীক্ষা শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদন ১১-২৫ নভেম্বর এবং পরীক্ষা ৫-২৬ ডিসেম্বর নির্ধারিত থাকলেও সম্পূরক পরীক্ষার্থীদের সুযোগ দিতে এই সময়সূচি পুনর্মূল্যায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
- মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা ৪ ডিসেম্বর সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে থাকলেও সম্পূরক পরীক্ষার ফলাফলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তা পরিবর্তনের বিষয়ে ইউজিসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আলোচনা করছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তনের নীতিগত আলোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লক্ষ্য হলো, সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা যেন চলতি শিক্ষাবর্ষেই দেশের প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদনের সুযোগ পান।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে সম্পূরক পরীক্ষা শুরু হবে এবং ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। তবে বর্তমান সূচি অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন প্রক্রিয়া ২৫ নভেম্বর শেষ হবে এবং পরীক্ষা চলবে ৫ থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। একইভাবে জগন্নাথ, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের সময়সীমাও ডিসেম্বরের মাঝামাঝি শেষ হয়ে যাবে, যা সম্পূরক পরীক্ষার্থীদের জন্য বড় বাধা। এই জটিলতা নিরসনে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও আবেদনের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার বিকল্প নিয়ে কাজ করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
বৈঠকে মাউশি মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, সম্পূরক পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ভর্তি প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা একটি চ্যালেঞ্জ। মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা ৪ ডিসেম্বর হওয়ার কথা থাকলেও তা পরিবর্তনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছের পরীক্ষা মার্চ মাসে হওয়ায় সেখানে সমন্বয়ের সুযোগ বেশি থাকলেও বুয়েট (১৬ জানুয়ারি) ও কৃষি গুচ্ছের (২ জানুয়ারি) পরীক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সমন্বয়হীনতার সমালোচনা করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর-এর অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান জানান, অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার কারণে যারা অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের জন্য এটি বড় সুযোগ। তবে স্থায়ী বিশেষজ্ঞ কমিশনের মাধ্যমে আগেভাগেই সিদ্ধান্ত নিলে এই অনিশ্চয়তা তৈরি হতো না। এই পরিবর্তনের ফলে ৪ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন থেকে একটি বছর নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।