দেশের ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই খাত আর রক্ষা না করলে অর্থনীতি নদীতে গিয়ে পড়তে পারে। ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনে সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলো পুনরুদ্ধার এবং নতুন ঋণের সঠিক ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ জানিয়েছেন, দেশের ব্যাংকিং খাত চরম দুর্বল ও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে এবং এটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে।
- ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনে অর্থনীতিবিদরা ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারের জন্য অবিলম্বে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন।
- উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ প্রশ্ন তুলেছেন যে, ব্যাংক থেকে বিতরণ করা নতুন ঋণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তার কোনো যথাযথ নিশ্চয়তা নেই।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ড. মাহবুব উল্লাহ। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দেশের ব্যাংকিং খাত আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। এই খাত থেকে দ্রুত সুশাসন ফিরিয়ে আনা না গেলে তা গোটা জাতীয় অর্থনীতিকে এক মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে এবং অর্থনীতি বড় ধরনের পতনের শিকার হতে পারে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনে অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা দেশের আর্থিক খাতের এই ভঙ্গুর চিত্র তুলে ধরেন। ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পাহাড় জমে যাওয়া, তারল্য সংকট এবং আস্থার অভাবের কারণে সামগ্রিক অর্থনীতিতে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোকে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, সে বিষয়ে নীতিনির্ধারক ও গবেষকরা বিভিন্ন কার্যকর রূপরেখা প্রস্তাব করেন।
সম্মেলন ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ প্রশ্ন তোলেন নতুন ঋণের সঠিক ব্যবহার নিয়ে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ব্যাংক খাত থেকে যেসব নতুন ঋণ দেওয়া হচ্ছে, তার অর্থ প্রকৃত উৎপাদনশীল খাতে সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না এবং তা ফেরত আসার কোনো নিশ্চয়তা আছে কি না, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে। ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে তদারকি আরও কঠোর করার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মত দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং খাতের এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ বিনিয়োগের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সময়মতো সঠিক সংস্কার ও কঠোর আইন প্রয়োগ করা না গেলে দেশের ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে, যার সুদূরপ্রসারী খেসারত দিতে হতে পারে পুরো দেশের সাধারণ মানুষকে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।