চাকরির প্রলোভনে অবৈধভাবে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য হওয়া অন্তত ৫৪ জন বাংলাদেশি গত তিন বছরে প্রাণ হারিয়েছেন। মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে মানবতাবিরোধী এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়া এসব যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিখোঁজ ও হতাহতদের ফিরিয়ে আনতে এবং জড়িত চক্রকে ধরতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কাজ করছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- গত তিন বছরে চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া ৫৪ জন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
- যুদ্ধের ময়দানে যাওয়ার আগে ভুক্তভোগী যুবকদের অনেকেই পরিবারের কাছে পাঠানো ভিডিও বার্তায় গায়েবি জানাজার কথা বলে গেছেন।
- মানবপাচারকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র সাধারণ যুবকদের লোভনীয় বেতনের চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে কৌশলে যুদ্ধক্ষেত্রে পাচার করছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
উন্নত জীবনের স্বপ্ন এবং চাকরির আশ্বাসে রাশিয়ায় গিয়ে ইউক্রেনের বিপক্ষে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য হওয়া অন্তত ৫৪ জন বাংলাদেশির গত তিন বছরে প্রাণহানির মর্মান্তিক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে দালালদের মাধ্যমে দেশ ছাড়ার পর তাদের জোরপূর্বক রুশ সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করা হয়। যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহতার শিকার হয়ে অনেক তরুণ ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের অনেকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, রাশিয়ায় পাড়ি জমানো অন্তত ২০ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দেওয়া তথ্য এবং বিভিন্ন সূত্রের অনুসন্ধানে এই সংখ্যা বেড়ে ৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ফ্রন্টলাইনে যাওয়ার পূর্বে অনেক যুবক তাদের মা-বাবা কিংবা স্বজনদের কাছে ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন, যেখানে তাদের বলতে শোনা যায়—'যদি না আসি, তবে গায়েবি জানাজা দিয়ে দিও'।
ভুক্তভোগী পরিবার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর মতে, মধ্যস্থতাকারী কিছু চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় এজেন্সির মাধ্যমে কম খরচে রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখায়। কিন্তু দেশটিতে পৌঁছানোর পর পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে তাদের সরাসরি রুশ সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় এবং পরবর্তীতে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউক্রেনীয় যুদ্ধবিরতি বা সম্মুখ সমরে পাঠানো হয়।
এই ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনগুলো চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধভাবে পাচারকারী চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে তদন্ত ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি, সাধারণ যুবকদের এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।