আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে গত আট মাসে প্রায় ১ হাজার টন সোনা কিনে নিজেদের রিজার্ভ সমৃদ্ধ করেছে চীন। দেশটির পিপলস্ ব্যাংক অব চায়না ধারাবাহিকভাবে এই হলুদ ধাতু জমা করায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর মুদ্রানীতি ও রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চীন গত আট মাসে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রায় ১ হাজার টন সোনা সংগ্রহ করে তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়ে তুলেছে।
- মার্কিন ডলারের ওপর ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা কমাতেই বেইজিংয়ের নীতিনির্ধারকরা ধারাবাহিকভাবে হলুদ ধাতু ক্রয়ের এই বিশাল কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
- বিশেষজ্ঞদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারে সোনার এই চড়ামূ্ল্য প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরেই প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্রে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে এবং মার্কিন ডলারের আধিপত্য থেকে মুক্ত হতে রেকর্ড পরিমাণ সোনা জমা করছে চীন। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস্ ব্যাংক অব চায়না গত আট মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রায় ১ হাজার টন সোনা কিনে নিজেদের ভাঁড়ার পূর্ণ করেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ড্রাগন খ্যাত দেশটির এই সোনা কেনার প্রবণতা আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক বাণিজ্যে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র প্রভাব বজায় রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি ও নিষেধাজ্ঞার রাজনীতি থেকে বাঁচতে চীনসহ বেশ কয়েকটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশ নিজেদের রিজার্ভ বৈচিত্র্যময় করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবেই চীন বড় পরিসরে সোনা মজুদ করছে, যা তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক সোনার বাজারে ব্যাপক চাহিদা তৈরি করেছে।
বিশ্ব স্বর্ণ কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম স্বর্ণের রিজার্ভ থাকা দেশগুলোর তালিকায় ভারত অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে। চীনের এই লাগাতার সোনা ক্রয়ের ফলে ভারতের রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা এবং মুদ্রা বাজারের ওপর পরোক্ষ চাপ তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যেভাবে ডলার ছেড়ে সোনা ক্রয়ে ঝুঁকেছে, তাতে বিশ্বজুড়ে মুদ্রার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, যেভাবে বৈশ্বিক বাজারে সোনার চাহিদা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার প্রতিযোগিতা বাড়ছে, তাতে আগামী বছরের মধ্যে প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ টাকার মাইলফলক ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা কঠিন করে তুললেও, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্বর্ণের মূল আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠার বিষয়টি আরও একবার স্পষ্টভাবে প্রমাণ করল।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।