আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো কমেছে স্বর্ণের দাম। ২১ অক্টোবর স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১১৮ ডলার ১৮ সেন্টে নামে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন সুদের হার নির্ধারণী বৈঠক, ডলারের স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি ও কঠোর মুদ্রানীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ২১ অক্টোবর স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,১১৮ ডলার ১৮ সেন্টে নেমে আসে এবং ডিসেম্বরের ফিউচার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪,১৩৬ ডলার ২০ সেন্টে।
- আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা ১৬ শতাংশ ধরা হচ্ছে।
- স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পতন ঘটেছে; স্পট মার্কেটে রুপা ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৪৪ সেন্ট এবং প্লাটিনাম ০.৬ শতাংশ কমে ১,৬৩৮ ডলার ৬১ সেন্ট হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক bullion বাজারে টানা চার দিন ধরে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন নীতিনির্ধারণী বৈঠককে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১১৮ ডলার ১৮ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে ডিসেম্বরের ফিউচার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম একই হারে কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৬ ডলার ২০ সেন্টে দাঁড়ায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি স্বর্ণের বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। জ্বালানির ব্যয় বাড়লে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি দীর্ঘস্থায়ী হয়, যার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচু পর্যায়ে রাখতে পারে। আসন্ন ২৭ ও ২৮ অক্টোবর ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকে সুদের হার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের বৈঠকে সুদের হার না বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি, তবে ডিসেম্বরে তা বাড়ার আশঙ্কা নিয়ে বাজারে আলোচনা চলছে। যেহেতু স্বর্ণ থেকে সরাসরি কোনো সুদ পাওয়া যায় না, তাই সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হলে এই ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ হ্রাস পায়।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যা পরোক্ষভাবে মুদ্রানীতির ওপর প্রভাব ফেলছে। মার্কিন ডলারের সূচক তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের কাছে স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ডিএইচএফ ক্যাপিটাল এসএর প্রধান নির্বাহী বাস কুইজম্যান এবং টেস্টলাইভের বৈশ্বিক সামষ্টিক বিভাগের প্রধান ইলিয়া স্পিভাকের মতে, মার্কিন ব্যক্তিগত ভোগব্যয় বা পিসিই মূল্যসূচকের প্রকাশিতব্য তথ্য এবং ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর স্বর্ণের ভবিষ্যৎ বাজার গতিপ্রকৃতি পুরোপুরি নির্ভর করছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও পতনের শিকার হয়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৪৪ সেন্টে ঠেকেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৩৮ ডলার ৬১ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৯০ ডলার ৮৪ সেন্টে নেমে এসেছে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক সূচকগুলোতে পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এই নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।