প্রয়াত সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের কঠোর নীতি ও তীব্র সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে অবশেষে টাচস্ক্রিন ডিসপ্লেযুক্ত ম্যাকবুক বাজারে আনতে চলেছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। দীর্ঘদিন টাচস্ক্রিন ল্যাপটপকে অবমূল্যায়ন ও বিদ্রুপ করলেও, বর্তমান বাজার চাহিদা এবং ব্যবহারকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটি এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে অ্যাপলের ল্যাপটপ প্রযুক্তিতে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রয়াত সিইও স্টিভ জবসের আজীবন বিরোধিতাকে ভুল প্রমাণ করে অ্যাপল তাদের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাকবুকে টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি যুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বী উইন্ডোজ ল্যাপটপগুলোতে টাচস্ক্রিন ফিচার থাকলেও অ্যাপল একে 'অপ্রয়োজনীয় ও অস্বস্তিকর' বলে এড়িয়ে চলেছিল।
- নতুন এই টাচস্ক্রিন ম্যাকবুকে অত্যাধুনিক এম-সিরিজ চিপসেট এবং উন্নত ম্যাকওএস সংযুক্ত করা হবে যা ব্যবহারকারী অভিজ্ঞতা পুরোপুরি বদলে দেবে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন প্রযুক্তি জগতের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান অ্যাপল তাদের দীর্ঘদিনের নীতি থেকে সরে এসে টাচস্ক্রিনযুক্ত ম্যাকবুক উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ একসময় সংস্থাটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস ল্যাপটপে টাচস্ক্রিন ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি এটিকে ergonomics বা শরীরের ব্যবহারের অনুপযুক্ত এবং বিরক্তিকর বলে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু প্রযুক্তির বিবর্তন এবং ব্যবহারকারীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে অ্যাপল।
অতীতে মাইক্রোসফট এবং অন্যান্য উইন্ডোজ ভিত্তিক ল্যাপটপ নির্মাতারা সফলভাবে টাচস্ক্রিন ল্যাপটপ বাজারে নিয়ে এলেও অ্যাপল তাদের ঐতিহ্যগত ট্র্যাকপ্যাড ও কিবোর্ড কম্বিনেশনেই অটল ছিল। এমনকি আইপ্যাড ও ম্যাকবুকের মধ্যবর্তী ব্যবধান বজায় রাখতে তারা দীর্ঘদিন এই প্রযুক্তির বিরোধিতা করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ম্যাকবুকের বিক্রি এবং ব্যবহারকারীদের একাংশের জোরালো দাবির মুখে অ্যাপলের প্রকৌশল ও ডিজাইন টিম এই নতুন হার্ডওয়্যার ডিজাইন নিয়ে কাজ শুরু করে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপলের এই ইউ-টার্ন তাদের ব্যবসায়িক কৌশলের এক বড় পরিবর্তন। এম-সিরিজের শক্তিশালী প্রসেসর এবং আধুনিক ডিসপ্লে প্রযুক্তির সমন্বয়ে আসছে এই টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক। অ্যাপলের হার্ডওয়্যার প্রকৌশলীরা টাচস্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ল্যাপটপের ব্যাটারি লাইফ এবং ডিসপ্লের স্থায়িত্ব বজায় রাখতে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন, যা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে সাহায্য করবে।
বাজার বিশ্লেषকরা মনে করছেন, টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক বাজারে আসার পর প্রিমিয়াম ল্যাপটপ সেক্টরে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে। এটি কেবল ক্রিয়েটিভ প্রফেশনাল বা সাধারণ ব্যবহারকারীদেরই আকৃষ্ট করবে না, বরং অ্যাপলের সামগ্রিক ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করবে। দীর্ঘদিনের একটি আদর্শগত অবস্থান ভেঙে অ্যাপলের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।