লক্ষ্মীপূজার দিনে ব্লাড ক্যানসার ও মূত্রনালির সংক্রমণজনিত জটিলতায় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী এবং রাজ্যসভার প্রাক্তন সংসদ সদস্য যোগেন চৌধুরী। ২০১৪ সালে জন্মভূমি ফরিদপুরে শেষবার আসা এই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীর মৃত্যুতে শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও রাজ্যসভার প্রাক্তন সংসদ সদস্য যোগেন চৌধুরী লক্ষ্মীপূজার দিন কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
- তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে মূত্রনালির মারাত্মক সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
- ২০১৪ সালে তিনি শেষবারের মতো তার জন্মভূমি ফরিদপুরে এসেছিলেন এবং তার ক্যানভাসে বারবার উঠে এসেছে শেকড়ের টান ও 'ডহরপাড়া'র স্মৃতি।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
বাংলা শিল্পকলার জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন ঘটেছে। ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে এবং মূত্রনালির সংক্রমণ নিয়ে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী ও রাজ্যসভার প্রাক্তন সংসদ সদস্য যোগেন চৌধুরী। লক্ষ্মীপূজার পবিত্র দিনে তাঁর এই প্রয়াণে ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বিশ্ব শিল্পাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন এই প্রথিতযশা শিল্পী।
১৯৩৯ সালে ফরিদপুরে জন্ম নেওয়া যোগেন চৌধুরী দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গে চলে যান। তবে তাঁর মন জুড়ে সবসময়ই ছিল জন্মভূমির স্মৃতি। ২০১৪ সালে তিনি শেষবারের মতো তাঁর পৈতৃক ভিটা ও জন্মভূমিতে ফিরেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত ক্যানভাস ও রেখাচিত্রে বারবার জীবন্ত হয়ে উঠেছে এপার বাংলার গ্রাম-বাংলার নিখাদ রূপ, বিশেষ করে 'ডহরপাড়া'র স্মৃতি ও গ্রামীণ আবহ। আধুনিক ভারতীয় চিত্রকলায় তাঁর স্বতন্ত্র শৈলী ও রেখার মার্জিত ব্যবহার তাঁকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দিয়েছিল।
যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, তাঁর তুলির টানে সাধারণ মানুষের জীবন সংগ্রাম ও মনস্তত্ত্ব যেভাবে ফুটিয়ে উঠেছে, তা তুলনাহীন। শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা শেষ করা এই শিল্পী কলকাতা ও চেন্নাইয়ে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা ও শিল্পচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া তিনি শান্তিনিকেতনের কলাভবন এবং কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুতে দক্ষিণ এশীয় আধুনিক চিত্রকলার একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল। শিল্পবোদ্ধা ও গবেষকদের মতে, যোগেন চৌধুরীর শিল্পকর্ম আগামী প্রজন্মের চিত্রশিল্পীদের সবসময় অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর সৃষ্টিশীল কাজগুলো শুধু ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি ছিল না, বরং তা ছিল আবহমান বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতির এক প্রামাণ্য দলিল, যা চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।