৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের আবহে গত ১১ অক্টোবর রবিবার সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ রাজধানী দিল্লিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সমস্ত ব্যারিকেড ও ১৬৩ ধারা অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও ভি মোহনার বেঞ্চ সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং আদালতের প্রবেশপথ উন্মুক্ত রাখতে এই কড়া নির্দেশ জারি করে। একইসঙ্গে ট্রেন ও মেট্রো বন্ধ রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চ গত ১১ অক্টোবর রবিবার দিল্লিতে একান্ত প্রয়োজন না থাকলে সমস্ত ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
- আদালতে সুপ্রিম কোর্ট ও তার আশপাশের এলাকায় জারিকৃত বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা (পূর্বতন আইপিসি ১৪৪ ধারা) অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- ককরোচ জনতা পার্টির গত ১০ অক্টোবর বিক্ষোভের জেরে ট্রেন ও মেট্রো চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আদালত দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব ও ডিএমআরসি-কে নোটিশ জারি করেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
নয়া দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির ব্যাপক আন্দোলন ও বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গত ১১ অক্টোবর রবিবার সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবে কঠোর অবস্থান নেয়। শুনানিকালীন আদালত পরিষ্কার নির্দেশ দেয় যে, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় কোনো ধরনের ব্যারিকেড বা প্রতিবন্ধকতা রাখা যাবে না। সাধারণ মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের কারণে যেন কোনোভাবেই ট্রেন ও দিল্লি মেট্রো চলাচল বন্ধ না হয়। কিন্তু বাস্তবে গতকাল একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয় এবং ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়, যা নিয়ে আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতে অবমাননার অভিযোগ তোলেন। এই প্রেক্ষাপটে আজকের বিশেষ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট শুধু ব্যারিকেড সরানোর নির্দেশই দেয়নি, বরং সুপ্রিম কোর্ট চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় জারি থাকা ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারাও প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, নাগরিকদের গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে, তবে তা অবশ্যই প্রচলিত পুলিশ আইনের সীমার মধ্যে হতে হবে। আইন বা পুলিশ বিধির ঊর্ধ্বে কেউ নয় বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি। সাম্প্রতিক এই আন্দোলনের জেরে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায় আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করে। ফলস্বরূপ, দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনকে (DMRC) আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ একদিকে যেমন নাগরিকদের চলাচলের অধিকার রক্ষা করবে, তেমনই রাজনৈতিক দলগুলির আন্দোলনের নামে জনজীবন অচল করে দেওয়ার প্রবণতার ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিক্ষোভের ক্ষেত্রে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও সতর্ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার ABP Ananda-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।