বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে চার দিনের শারদোৎসবের সমাপ্তি ঘটেছে। কলকাতা সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর ও জয়নগর এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীবরণ, সিঁদুরখেলা ও গঙ্গার ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন হয়। ইছামতী নদী এবং বাঁকুড়ার ঐতিহাসিক আলম সায়েরের পুকুরে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়ের মধ্য দিয়ে নিরাপদে সম্পন্ন হয়েছে দেবী দুর্গার বিদায় অনুষ্ঠান।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, জয়নগর, মথুরাপুর ও ডায়মন্ড হারবারের ঐতিহ্যমণ্ডিত বনেদি বাড়িগুলিতে ঐতিহ্য মেনে সিঁদুর ও দেবীবরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
- বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের রাইপুরের চাঁদুডাঙা গ্রামের মহামায়া মন্দিরের পুজো শেষে ঐতিহাসিক আলম সায়েরের পুকুরে ঘট নিরঞ্জন করা হয়েছে।
- উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ইছামতী নদীতে দুই বাংলার মানুষের উপস্থিতিতে কঠোর পুলিশ ও বিজিবি-বিএসএফের নজরদারিতে প্রতিমা নিরঞ্জন হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
সকাল থেকেই ঢাকের কাঠিতে বিদায়ের সুর বাজতে শুরু করায় চার দিনের বাপেরবাড়ি পর্ব কাটিয়ে উমার কৈলাসে ফেরার পালা সম্পন্ন হয়েছে। ষষ্ঠীর বোধন থেকে শুরু হওয়া আনন্দের জোয়ার মিলিয়ে গিয়ে বিজয়া দশমীর সকাল থেকেই মনখারাপের মেঘ জমে পুরো বাংলায়। মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীবরণ, সিঁদুর ও অঞ্জলির পর বেলা গড়াতেই গঙ্গার ঘাটগুলির দিকে শুরু হয় প্রতিমার যাত্রা। সঙ্গে চলতে থাকে সেই চেনা আর্তি— ‘আসছে বছর আবার হবে’। কলকাতার পাশাপাশি জেলাগুলির ছবিও ছিল একই রকম আবেগঘন।
কলকাতার বিভিন্ন ঘাটে কড়া পুলিশি নজরদারির মধ্যে নিরঞ্জন পর্ব শুরু হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, জয়নগর, মথুরাপুর ও ডায়মন্ড হারবার সংলগ্ন ঐতিহ্যমণ্ডিত বনেদি বাড়িগুলিতে সকাল থেকেই শুরু হয় সিঁদুর ও দেবীবরণ। ঐতিহ্যের ধারা বজায় রেখে বনেদি পরিবারগুলিতে সম্পন্ন হয় দশমীর আচার-অনুষ্ঠান। অন্যদিকে বারোয়ারি মণ্ডপগুলিতে দুপুরের পর থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন মহিলারা। দেবীবরণ, গালে মিষ্টি আর সিঁদুর ছোঁয়াছুঁয়ির মাধ্যমে চলে দেবী বিদায়ের বন্দোবস্ত। একই ছবি দেখা গিয়েছে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে।
দশমীর এই আবহে ধরা পড়ে লোকায়তের কিছু বিশেষ দৃশ্যও। বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের রাইপুরের চাঁদুডাঙা গ্রামের মহামায়া মন্দিরে দশমীর পুজো শেষে ঘট নিরঞ্জন হয় ঐতিহাসিক আলম সায়েরের পুকুরে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই পুকুরেই একসময় শাঁখারীর কাছ থেকে শিশুকন্যা রূপে শাঁখা পরেছিলেন দেবী। সেই স্মৃতিবিজড়িত পুকুরেই সপ্তমীর সকালে কলাবউ স্নান করিয়ে ঘট আনা হয় এবং দশমীর শেষে তা বিসর্জন দেওয়া হয়। দেবীর আশীর্বাদ লাভের আশায় ঘাটে আঁচল পেতে বসে থাকতে দেখা যায় বহু ভক্তকে।
এদিকে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ইছামতী নদীতেও শুরু হয় প্রতিমা নিরঞ্জন। দুই বাংলার মানুষকে এক সূত্রে বেঁধে রাখা এই ঐতিহ্যবাহী বিসর্জন দেখতে নদীর দু’কূলে উপচে পড়ে মানুষের ভিড়। নির্বিঘ্নে বিসর্জন সম্পন্ন করতে নদীর বুকে ও পাড়ে মোতায়েন ছিল পর্যাপ্ত পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সব মিলিয়ে কঠোর নিরাপত্তা ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ উৎসবের সমাপ্তি ঘটেছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।