দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং রেকর্ড ২ হাজার ৩৩৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এটি চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ ভর্তির সংখ্যা। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৪৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯১৩ জন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চলতি বছরের একদিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
- গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৩ জনের মধ্যে ২ জন ঢাকা বিভাগের এবং ১ জন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা।
- জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬১ জনে এবং মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯১৩ জন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন আরও মারাত্মক রূপ ধারণ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৩৩৩ জন রোগী, যা চলতি বছরে একদিনে হাসপাতালে ভর্তির অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে গত ২৫ অক্টোবর একদিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার রেকর্ড ছিল। নতুন আক্রান্তদের নিয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও তীব্র হয়েছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৪৬১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই সময়ে সারা দেশে মোট ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯১৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, আক্রান্তদের মধ্যে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৮৯ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বর্ষা মৌসুম পেরিয়ে গেলেও এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপের ঘাটতি থাকায় ডেঙ্গুর এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন পৌর এলাকায় মশকনিধন কার্যক্রমে নিয়মিত তদারকি ও সমন্বিত উদ্যোগের অভাব রয়েছে। আক্রান্তদের একটি বড় অংশই রাজধানী ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছে, যা প্রমাণ করে যে ডেঙ্গু এখন আর শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়, বরং দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।
জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, কেবল হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রতিটি এলাকায় লার্ভা ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করতে হবে। সাধারণ মানুষকেও দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার এবং নিজ বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। অন্যথায় এই মৌসুমে মৃত্যুর ও আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে, যা জাতীয় স্বাস্থ্য খাতের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।