ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেওয়া অবমাননাকর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ আখ্যা দিয়ে অনতিবিলম্বে তা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিএনপিকেও এই মানসিকতার দায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘অমানুষদের জায়গা’ হিসেবে আখ্যায়িত করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার এক বিবৃতি দিয়েছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।
- সাদিক কায়েম ফজলুর রহমানকে অবিলম্বে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
- তিনি উল্লেখ করেন, ফজলুর রহমানকে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন প্রদানকারী দল বিএনপিও এই উগ্র ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার দায় এড়াতে পারে না।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেওয়া একটি বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক ও ছাত্র অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি, বাকশাল নেতা এবং বর্তমান বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যকে চরম অবমাননাকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আখ্যা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি উত্থাপন করেন।
বিবৃতিতে সাদিক কায়েম উল্লেখ করেন, দেশের অন্যতম প্রধান ও সর্বোচ্চ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘অমানুষদের জায়গা’ হিসেবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত বিদ্বেষপূর্ণ ও নিন্দনীয়। তিনি অভিযোগ করেন, ফজলুর রহমান বাহ্যিকভাবে বাকশাল ত্যাগ করলেও তাঁর মনস্তাত্ত্বিক জায়গা থেকে ফ্যাসিবাদী আদর্শ ও ঘৃণার চর্চা দূর হয়নি। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু তার জেরে একটি জাতির মূল চালিকাশক্তি ও বিদ্যাপীঠের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামগ্রিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ডাকসু ভিপি আরও বলেন, এ ধরনের উগ্র মানসিকতার দায়ভার ফজলুর রহমানকে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন দেওয়া রাজনৈতিক দল বিএনপিকেও নিতে হবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমানা লঙ্ঘন করে দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিয়ে এমন মন্তব্য তরুণ সমাজ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এর ফলে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিবেশ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে এ ধরনের বক্তব্য উত্তাপ ছড়াচ্ছে এবং ছাত্রসমাজের মধ্যে নতুন করে বিভাজনের রেখা টেনে দিচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় ছাত্রনেতাদের এমন জোরালো অবস্থান ভবিষ্যতে রাজনীতিবিদদের বক্তব্য ও আচরণে আরও সংযত হওয়ার বার্তা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ফজলুর রহমানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।