লাইভ
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
প্লে-স্টোর অ্যাপ

ধারাবাহিক লোকসানে বিআইডব্লিউটিসি, পদ্মা সেতু চালুই কি একমাত্র কারণ

প্রতিবেদক: অনলাইন ডেস্ক | তারিখ: 08 নভেম্বর 2026, 03:53 রাত | পড়ার সময়: 1 মিনিট | 72 বার পঠিত
ধারাবাহিক লোকসানে বিআইডব্লিউটিসি, পদ্মা সেতু চালুই কি একমাত্র কারণ
প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) গত বেশকটি অর্থবছরে ধারাবাহিক লোকসানের মুখে পড়েছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ফেরি চলাচলে এবং যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যায় বড় ধরনের ধস নামে। এর ফলে সংস্থাটির রাজস্ব আয় আশঙ্কাজনক হারে কমে যায় এবং বড় অংকের আর্থিক ঘাটতি তৈরি হয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):

  • পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
  • ফেরি ও জলযানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, অতিরিক্ত জনবল এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিচালন ব্যয় আয়কে ছাড়িয়ে গেছে।
  • লোকসান কাটিয়ে উঠতে সংস্থাটি রুট পুনর্বিন্যাস, আধুনিক ভেসেল সংযোজন এবং ই-টিকেট চালুর মতো সংস্কারমূলক উদ্যোগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রতিবেদন

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২২ সালের জুনে পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটলেও বিআইডব্লিউটিসির আয়ের প্রধান উৎস ফেরি পারাপার ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিমুলিয়া-মাওয়া এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ায় কর্পোরেশনের দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে।

পদ্মা সেতুর সুফল সাধারণ মানুষ পেলেও বিআইডব্লিউটিসি তাদের বিশাল বহরের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। সংস্থাটির পরিচালনা ব্যয়ের বড় একটি অংশ ব্যয় হয় পুরোনো ফেরিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ আমদানি এবং বিপুল সংখ্যক স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মচারীর বেতন-ভাতা প্রদানে। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে ফেরি পরিচালনার খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা আয় দিয়ে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল পদ্মা সেতু চালু হওয়াই বিআইডব্লিউটিসির এই নাজুক পরিস্থিতির একমাত্র কারণ নয়; বরং দীর্ঘদিনের দুর্বল ব্যবস্থাপনা, সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাব এবং দুর্নীতিও এর পেছনে সমানভাবে দায়ী। বিকল্প রুটগুলোতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নজর না দেওয়ায় এবং সময়মতো আধুনিক ভেসেল সংযোজন করতে না পারায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটি।

এই সংকট থেকে উত্তরণে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ নতুন কিছু প্রস্তাব বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে লাভজনক নতুন রুট খুঁজে বের করা, অপ্রয়োজনীয় ও লভ্যাংশহীন রুট বন্ধ বা সীমিত করা, এবং অনলাইন টিকেটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজস্ব চুরির পথ বন্ধ করা। সংশ্লিষ্ট মহel মনে করছে, সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক প্রণোদনা এবং কঠোর প্রশাসনিক সংস্কার ছাড়া এই লোকসানের বৃত্ত থেকে বিআইডব্লিউটিসির বের হয়ে আসা কঠিন হবে।

সম্পাদকীয় নীতি ও তথ্য যাচাই

বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।

অফিসিয়াল অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন

সর্বশেষ খবর ও তাৎক্ষণিক ব্রেকিং পুশ নোটিফিকেশন

প্রতিদিনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সবার আগে পড়তে ইনস্টল করুন বাংলা নিউজ ২৪-এর অফিশিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন। নির্ভুল খবর, তাৎক্ষণিক ব্রেকিং আপডেট ও সাবলীল পাঠ-অভিজ্ঞতা।

GET IT ON
Google Play
গুগল প্লে স্টোরে ক্লোজড বেটা ও আর্লি অ্যাক্সেস লাইভ