দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও পাসের হারসহ সব সূচকে ছেলেদের পেছনে ফেলে আবারও এগিয়েছে মেয়েরা। এ বছর বোর্ডে মোট পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৯৫৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৭০ জন ছাত্রী এবং ১ হাজার ৩৮৩ জন ছাত্র রয়েছে। ছাত্রী পাসের হার ৫০ দশমিক ৫৬ শতাংশ। শনিবার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- দিনাজপুর বোর্ডে এ বছর মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে পাস করেছে ৫১ হাজার ৩৯৮ জন এবং সামগ্রিক পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
- বোর্ডজুড়ে মোট ২ হাজার ৯৫৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যেখানে ছাত্রদের তুলনায় ১৮৭ জন বেশি অর্থাৎ ১ হাজার ৫৭০ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
- বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য—তিনটি বিভাগেই মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে; বিশেষ করে মানবিক বিভাগে ছেলেদের (৩৩.১৯%) তুলনায় মেয়েরা (৪৫.৬০%) ১২ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি পাস করেছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে এবারও দৃশ্যমান হয়েছে নারীদের শিক্ষাগত অগ্রযাত্রা। জিপিএ-৫ প্রাপ্তি থেকে শুরু করে পাসের হার—প্রতিটি সূচকেই ছাত্রদের পেছনে ফেলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে ছাত্রীরা। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর এই বোর্ডের অধীনে আটটি জেলার ৬৬৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৭৮৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫১ হাজার ৩৯৮ জন পরীক্ষার্থী, যার ফলে বোর্ডে মোট পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ বছর দিনাজপুর বোর্ডে মোট ২ হাজার ৯৫৩ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৭০ জন ছাত্রী এবং ১ হাজার ৩৮৩ জন ছাত্র। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ১৮৭ জন ছাত্রী বেশি জিপিএ-৫ লাভ করেছে। মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৫০ দশমিক ৫৬ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ছিল ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারের দিক থেকেও ছাত্ররা ছাত্রীদের তুলনায় ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত পরিসংখ্যানে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে আরও জানা গেছে, বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য—এই তিনটি প্রধান বিভাগেই ছাত্ররা পিছিয়ে পড়েছে ছাত্রীদের কাছে। বিজ্ঞান বিভাগে সামগ্রिक পাসের হার ৬৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ হলেও ছাত্রীদের পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ, যা থেকে স্পষ্ট যে মেয়েরা এই বিভাগে ২ দশমিক ৬১ শতাংশ এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া, মানবিক বিভাগে পাসের হার ৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ (ছাত্রী ৪৫.৬০%, ছাত্র ৩৩.১৯%) এবং বাণিজ্য বিভাগে পাসের হার ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ (ছাত্রী ৩৬.৯৮%, ছাত্র ৩৪.৯১%) রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগে ১২ দশমিক ৪১ শতাংশের ব্যবধানে ছাত্রীদের এই বড় জয় শিক্ষাবিদদের নজর কেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রান্তিক অঞ্চলে মেয়েদের এই ধারাবাহিক সাফল্য সমাজে নারী শিক্ষার প্রসার ও সচেতনতা বৃদ্ধির একটি জোরালো প্রতিফলন। কঠোর পরিশ্রম, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এবং সঠিক দিকনির্দেশনার ফলেই মেয়েরা আজ প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষায় নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখছে। এই অর্জন শুধু দিনাজপুর বোর্ড নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে নারী ক্ষমতায়ন ও শিক্ষাখাতে এক ইতিবাচক বার্তা বহন করছে, যা আগামী দিনে শিক্ষাক্ষেত্রে আরও বড় পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।