এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার রেকর্ড করা হয়েছে। দেশজুড়ে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন, খাতা মূল্যায়নে কড়াকড়ি এবং নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতির মতো বিষয়গুলোকে এই বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শিক্ষাবিদরা। পাশাপাশি বরিশাল বোর্ডে শতভাগ ফেল করা ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বোর্ডের করুণ চিত্র শিক্ষা খাতে বড় উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে, যা দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার নিম্নমুখী মানকে নির্দেশ করে।
- যশোর বোর্ডের ৫৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং বরিশাল বোর্ডে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১টিতে।
- শিক্ষাবিদরা কঠোর মূল্যায়ন পদ্ধতি, ক্লাসে শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং সিলেবাস বাস্তবায়নে ত্রুটিপূর্ণ কৌশলকে এই নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, বিগত ২২ বছরের তুলনায় এবার পাসের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিশেষ করে যশোর বোর্ডে ৫৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পাস করতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে এক বড় ধরনের ছন্দপতন। একইসঙ্গে বরিশাল বোর্ডে এমন ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাওয়া গেছে যেখানকার কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার করুণ বাস্তবতারই বহিঃপ্রকাশ।
এই বিপর্যয়ের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন এবং খাতা দেখার ক্ষেত্রে বাড়তি কড়াকড়িকে দায়ী করেছেন। করোনা মহামারী পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি এবং নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতি এই ফলাফলে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা গ্রহণ এবং প্রশ্নপত্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণেও শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষাবার্তা ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। আগামী রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থীর ফলাফল পরিবর্তিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে কেবল পুনঃনিরীক্ষণ নয়, বরং সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার এই বড় ধাক্কা সামাল দিতে নীতিনির্ধারক ও শিক্ষাবিদদের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু কঠোর মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করলেই চলবে না, বরং শিক্ষক সংকট দূরীকরণ, শ্রেণিকক্ষে পঠনপাঠনের মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এই ধরনের ফলাফল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ রুদ্ধ করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রক্রিয়াকেও দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত করবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।