আন্তর্জাতিক মুদ্রাব্যবস্থায় মার্কিন ডলারের একক আধিপত্য চ্যালেঞ্জ করতে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। ব্রেটন উডস চুক্তির পর থেকে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ডলারের যে নিরঙ্কুশ প্রভাব রয়েছে, তা কমিয়ে নিজস্ব মুদ্রা রেনমিনবির ব্যবহার বাড়াতে চায় বেইজিং। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এড়াতে এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই চীন এই বিকল্প আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ১৯৪৪ সালের ব্রেটন উডস চুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মুদ্রাব্যবস্থায় মার্কিন ডলার বিশেষ অবস্থান লাভ করে এবং ১৯৭১ সালে সোনার সঙ্গে ডলারের সরাসরি বিনিময়যোগ্যতা বন্ধ হওয়ার পরও ডলার তার বৈশ্বিক আধিপত্য ধরে রাখে।
- ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দেওয়া এক ভাষণে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং দেশটিকে একটি শীর্ষস্থানীয় আর্থিক শক্তিতে পরিণত করার প্রচেষ্টা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন, যার মূল ভিত্তি হলো শক্তিশালী জাতীয় মুদ্রা।
- ইউক্রেন সংকটের পর রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা আর্থিক নিষেধাজ্ঞা এবং বৈদেশিক সম্পদ জব্দের ঘটনা চীনকে নতুন করে সতর্ক করেছে, যার ফলে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ রপ্তানি খাত সুরক্ষায় রেনমিনবির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
১৯৭১ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রাব্যবস্থা নিয়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশের অর্থমন্ত্রীরা উদ্বেগে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী জন কনেলি মন্তব্য করেছিলেন যে ডলার যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা হলেও এর সমস্যার ভার বহন করতে হয় অন্য দেশগুলোকে। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত এবং আর্থিক লেনদেনের বড় একটি অংশ এখনো মার্কিন ডলারনির্ভর। ১৯৪৪ সালের ব্রেটন উডস চুক্তির মাধ্যমে ডলার এই বিশেষ অবস্থান লাভ করে এবং ১৯৭১ সালে সোনার সঙ্গে ডলারের সরাসরি বিনিময়যোগ্যতা বন্ধ হলেও এর আন্তর্জাতিক প্রভাব কমেনি।
এই একচ্ছত্র আধিপত্য কমাতে এবার দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন। বেইজিংয়ের লক্ষ্য রাতারাতি ডলারকে সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং এমন একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা যেখানে চীনের নিজস্ব মুদ্রা রেনমিনবি আরও বেশি ব্যবহৃত হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্যিক চাপ কিংবা আর্থিক অবরোধের মুখে যাতে চীনের অর্থনীতি সহজে বিপর্যস্ত না হয়, সেই প্রস্তুতিই এখন দেশটির কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এক ভাষণে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং দেশটিকে একটি শীর্ষস্থানীয় আর্থিক শক্তিতে পরিণত করার প্রচেষ্টা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যাপক আর্থিক নিষেধাজ্ঞা এবং রাশিয়ার বৈদেশিক সম্পদ জব্দ করার ঘটনা বেইজিংয়ের নীতিনির্ধারকদের নতুন উদ্বেগ তৈরি করে। চীনের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভূরাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হলে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সঙ্গে জড়িত রপ্তানি খাত বড় সংকটে পড়তে পারে।
ডলারের আন্তর্জাতিক অবস্থান ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে যেমন বিভিন্ন অর্থনৈতিক দায়িত্ব পালন করতে হয়, তেমনি চীনও তার অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত না করে রেনমিনবির ব্যবহার বাড়িয়ে একটি বিকল্প আর্থিক প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করতে চায়। বেইজিং চায় ডলারের একক আধিপত্য কমিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রার সহাবস্থান নিশ্চিত করতে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক সুরক্ষা বজায় রাখবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।