শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের আগে মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা। শনিবার সকালে দর্পণ বিসর্জনের পর বিবাহিত নারীরা একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান। ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির ও কলকাতার বাগবাজারসহ বিভিন্ন মণ্ডপে অশুভ শক্তির বিনাশ ও জগতের মঙ্গলের প্রার্থনায় এই উৎসব উদযাপিত হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বিজয়া দশমীর সকালে শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে দেবীর বিদায় সম্পন্ন হয় এবং এরপরই শুরু হয় সিঁদুর খেলা ও বরণ উৎসব।
- ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ও বনানী পূজামণ্ডপে কয়েক হাজার নারী সিঁদুর খেলায় অংশ নিয়ে স্বামী ও পরিবারের দীর্ঘায়ু এবং বিশ্বশান্তি কামনা করেন।
- কলকাতার বাগবাজার সর্বজনীন ও শোভাবাজার রাজবাড়িতে কয়েকশ বছরের ঐতিহ্য মেনে সিঁদুর খেলার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
শারদীয় দুর্গোৎসবের পাঁচ দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘটল বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে। অশুভ শক্তির বিনাশ আর শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক হিসেবে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমান ভক্তরা। দর্পণ বিসর্জনের পর বিবাহিত নারীরা দেবীর পায়ে সিঁদুর অর্পণ করেন এবং একে অপরের কপালে ও গালে সিঁদুর মাখিয়ে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন। এই আচারের মাধ্যমে নারীরা একে অপরের সৌভাগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
এ বছর ঢাকা ও কলকাতার বিভিন্ন মণ্ডপে উৎসবের আমেজ ছিল তুঙ্গে। বিশেষ করে ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল থেকেই শত শত নারী লাল পেড়ে সাদা শাড়িতে সজ্জিত হয়ে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। অন্যদিকে, কলকাতার বাগবাজার ও শোভাবাজার রাজবাড়ির মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে কয়েকশ বছরের পুরনো রীতি মেনে এই উৎসব উদযাপিত হয়েছে। এ বছর পশ্চিমবঙ্গে 'এক পুকুর ভালোবাসা' থিমের মতো বৈচিত্র্যময় মণ্ডপগুলো দর্শনার্থীদের বিশেষ নজর কেড়েছে।
ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী, সিঁদুর খেলা কেবল একটি উৎসব নয়, বরং এটি সধবা নারীদের স্বামী ও পরিবারের মঙ্গল কামনার একটি বিশেষ আচার। পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যমতে, এবার বাংলাদেশে ৩২ হাজারের বেশি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি স্থানেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। ভক্তদের মতে, সিঁদুরের লাল রঙ শক্তির প্রতীক, যা অশুভ শক্তিকে দূরে রাখার প্রেরণা দেয়।
সিঁদুর খেলার পর শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমাগুলো নিকটস্থ জলাশয় বা নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। এই বিদায়বেলায় ভক্তদের মনে বিষাদের ছায়া থাকলেও 'আসছে বছর আবার হবে'—এই আশাবাদ নিয়ে শেষ হয় বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপূজা। বিসর্জনের পর শান্তিজল গ্রহণ ও বড়দের প্রণাম করার মাধ্যমে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সর্বস্তরের মানুষ।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।