২০২৬ সালের দুর্গাপূজার বিসর্জন উপলক্ষে কলকাতা ও রাজ্যজুড়ে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর বাবুঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে জল ও স্থলপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ অনুযায়ী, শুধুমাত্র সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী ব্যক্তিরাই প্রতিমা স্পর্শ করতে পারবেন এবং নিরাপত্তায় যুক্ত করা হয়েছে এনডিআরএফ (NDRF)-কে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চলতি বছরের বিসর্জনে নিরাপত্তার স্বার্থে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য সরকারের পাশাপাশি এনডিআরএফ (NDRF)-কেও যুক্ত করা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়।
- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী, বিসর্জনের সময় প্রতিমা বহনকারী ও স্পর্শকারী ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় পুলিশ কমিশনারকে (CP) আবশ্যিকভাবে জমা দিতে হবে এবং শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই প্রতিমা ছুঁতে পারবেন।
- চোরবাগানের সপ্তমীর দিন মণ্ডপে হুড়োহুড়ির সময় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর বাবুঘাটসহ সমস্ত ঘাটে ক্রেনের বদলে ট্রলি, কুলি এবং ১৮ জন আইপিএস (IPS) কর্মকর্তার সরাসরি তদারকিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
২০২৬ সালের দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনকে কেন্দ্র করে কলকাতা ও রাজ্যজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর ও ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। চোরবাগানের মণ্ডপে সপ্তমীর দিন হুড়োহুড়ির জেরে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবার প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কলকাতার বাবুঘাটসহ রাজ্যের প্রতিটি বিসর্জনের ঘাট জলপথ ও স্থলপথে সম্পূর্ণ কড়া নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। নিরাপত্তা তদারকিতে সরাসরি নিয়োজিত করা হয়েছে ১৮ জন আইপিএস (IPS) অফিসারকে।
বিসর্জনের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বাবুঘাট পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, প্রতিমা নিরঞ্জনের ক্ষেত্রে পবিত্রতা, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় শাস্ত্রের নিয়ম সুনির্দিষ্টভাবে মেনে চলা হবে। বিগত বছরগুলোতে ক্রেনের ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় এবার তা পরিবর্তন করে বিশেষ ট্রলি ও কুলির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথাগত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ (NDRF)-কে মাঠে নামানো হয়েছে।
প্রশাসনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিমা ঘাটে নিয়ে যাওয়া এবং তা স্পর্শ করার ক্ষেত্রে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মা-কে যাঁরা ঘাটে নিয়ে যাবেন, তাঁদের সুনির্দিষ্ট নাম ও পরিচয় পুলিশ কমিশনারের (CP) কাছে জমা দিতে হবে। এমনকি, শুধুমাত্র সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী ব্যক্তিরাই প্রতিমা স্পর্শ করতে পারবেন বলে নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পেছনে কোনো সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য নেই, বরং হাজার বছরের ধর্মীয় ঐতিহ্য, পরম্পরা এবং পবিত্রতা অক্ষুণ্ণ রাখাই মূল লক্ষ্য বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিসর্জন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই সকালের মধ্যে ঘাটের কাঠামো ও পূজার সামগ্রী দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চোরবাগানের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পর গঠিত তদন্ত দল ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, সামান্যতম কোনো ফাঁকফোকর না রেখে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ উপায়ে বিসর্জন পর্ব সম্পন্ন করতে রাজ্যজুড়ে বাড়তি পুলিশি পাহারা ও নজরদারি আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।