ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পার্কিং ও সিন্ডিকেটের দ্বন্দ্বের জেরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকদের আকস্মিক ধর্মঘটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও স্বজনরা। আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে মরদেহ পিকআপ ভ্যানে বহন করতে বাধ্য হয়েছেন শোকার্ত পরিবার। এই অমানবিক পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও শ্রমিকরা আকস্মিক ধর্মঘট পালন করেন।
- ধর্মঘটের কারণে প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে হাসপাতালেই আটকা পড়ে থাকে একাধিক মরদেহ ও মুমূর্ষু রোগী, যার ফলে স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
- যানবাহন সংকটে বাধ্য হয়ে অনেক স্বজন তাদের প্রিয়জনের মরদেহ সাধারণ পিকআপ ভ্যানে করে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে যান।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অভ্যন্তরীণ পার্কিং ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকদের হঠাৎ ধর্মঘটে অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এর ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হন। আকস্মিক এই ধর্মঘটের কারণে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা সঠিক সময়ে হাসপাতাল ত্যাগ করতে পারেননি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পার্কিংয়ের স্থান দখল এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। তারই জেরে হুট করে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে জরুরি সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের বিপন্ন স্বজনরা অসহায় হয়ে পড়েন। হাসপাতালের চত্বরে দিনভর অ্যাম্বুলেন্সের চাকা সচল না থাকায় রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্য দেখা যায় স্বজনহারা মানুষের ক্ষেত্রে। দীর্ঘ আট ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে তাদের প্রিয়জনের মরদেহ খোলা পিকআপ ভ্যানে করে গন্তব্যে নিয়ে যান। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়া এক স্বজনকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতে শোনা যায়, ‘এই চোরের কারণে আজ লাশ পিকআপে নিয়ে যাচ্ছি।’ এই অমানবিক পরিস্থিতি উপস্থিত জনতাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
জরুরি চিকিৎসাসেবা ও এর সঙ্গে জড়িত অ্যাম্বুলেন্সের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি সেবাখাতকে জিম্মি করে এ ধরনের ধর্মঘট জনস্বার্থের পরিপন্থী। সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে হাসপাতাল চত্বরে সার্বক্ষণিক ও সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কাউকে এমন অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।