কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষায় চরম বিপর্যয় দেখা গেছে। বোর্ডের অধীনে থাকা তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন করে পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউই পাস করতে পারেননি। চলতি বছর কুমিল্লা বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশে, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের রেকর্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন করে পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, যাদের সকলেই অকৃতকার্য হয়েছেন।
- চলতি বছরে কুমিল্লা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সামগ্রিক পাসের হার নেমে এসেছে ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশে।
- বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পাসের হার গত ১৫ বছরের মধ্যে বোর্ডটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে এক নজিরবিহীন ও হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে। বোর্ডের অধীন মোট তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন করে পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও তাদের কেউই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেননি। অর্থাৎ শূন্য পাসের লজ্জায় পড়েছে প্রতিষ্ঠান তিনটি, যা শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চলতি বছর কুমিল্লা বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশে। শিক্ষাবিদ ও বোর্ড সংশ্লিষ্টদের মতে, গত ১৫ বছরের মধ্যে এটিই এই বোর্ডের সবচেয়ে কম পাসের হার। করোনা পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের শিখন ঘাটতি, ইংরেজি ও আইসিটিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বল ফলাফল এবং খাতা মূল্যায়নে কড়াকড়ির কারণে এই বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষা বিশ্লেষকরা।
ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেছে, দেশের অন্যান্য শিক্ষাবোর্ডের তুলনায় কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। নামমাত্র পরীক্ষার্থী নিয়ে চলা এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম এবং শিক্ষক সংকট নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিম্ন পাসের হার এবং একক পরীক্ষার্থীর শতভাগ ফেল করার মতো ঘটনা দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মানের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট দূর করা এবং মনিটরিং জোরদার না করলে আগামীতে শিক্ষার মান আরও অবনতির দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।