৬০ শব্দের স্মার্ট সারসংক্ষেপ"চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগ ৫ শতাংশ কমে সাত কোটি ৭৪ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে পুরনো কম্পানিগুলোর মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ ১২.৭৮ শতাংশ বেড়ে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলার হওয়ায় সামগ্রিক নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে নতুন বিনিয়োগ কমায় দীর্ঘমেয়াদী শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।"
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগ এসেছে সাত কোটি ৭৪ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল আট কোটি ১৩ লাখ ডলার।
- আলোচ্য প্রান্তিকে পুরনো কোম্পানির মুনাফা পুনর্বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২৬ কোটি ৯ লাখ ডলার, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৬ কোটি ৮২ লাখ ডলার।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের তুলনায় এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে সামগ্রিক নিট এফডিআই ২২.৪৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলারে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশে নতুন বিদেশি বিনিয়োগ বা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) গতি ধারাবাহিকভাবে মন্থর হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নতুন ইক্যুইটি বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ কমে মাত্র সাত কোটি ৭৪ লাখ ডলারে নেমে এসেছে। গত বছরের ঠিক একই সময়ে এই ইক্যুইটি বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল আট কোটি ১৩ লাখ ডলার। নতুন বিদেশি উদ্যোক্তাদের এমন অনীহার ফলে দেশের সামগ্রিক শিল্পায়ন ও মূলধনী বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন বিদেশি মূলধন বা ইক্যুইটি বিনিয়োগ কমলেও পুরনো বহুজাতিক ও বিদেশি কম্পানিগুলোর মুনাফা পুনর্বিনিয়োগের ওপর ভর করে কাগজে-কলমে সামগ্রিক নিট এফডিআই সামান্য বেড়েছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নিট এফডিআই দাঁড়িয়েছে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩০ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নিট এফডিআই বেড়েছে ১২.৭৮ শতাংশ। তবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ৪৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের বিনিয়োগ আসার পর দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা ২২.৪৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া আন্তকম্পানি ঋণের মাধ্যমে নিট বিনিয়োগ আগের প্রান্তিকের দুই কোটি ৬১ লাখ ডলার থেকে নাটকীয়ভাবে কমে মাত্র ৮৬ লাখ ডলারে ঠেকেছে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশের অভাব এবং নীতিগত প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব কাজের অসংগতির কারণেই নতুন বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের কার্যকর বাস্তবায়নের অভাব এবং ব্যবসায়িক লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা উদ্যোক্তাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলছে। কথার চেয়ে কাজের প্রতিফলন না ঘটলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো বিনিয়োগকারীদের মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ সাময়িকভাবে এফডিআইয়ের পরিসংখ্যান ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে রাখলেও তা নতুন কর্মসংস্থান বা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে যথেষ্ট নয়। যদি নতুন বিদেশি মূলধন আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত দূর করা না হয়, তবে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্প খাতের সম্প্রসারণ দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এই সংবাদের মূল তথ্য ও স্বত্বাধিকার দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর নিকট সংরক্ষিত। পাঠকদের দ্রুত পাঠযোগ্যতার জন্য বাংলা নিউজ ২৪ সম্পাদকীয় টিম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে।