দেশের বাজারে টানা তিন দফা দাম বাড়ার পর অবশেষে কমেছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন নির্ধারিত মূল্যে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনা নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিয়ে বিক্রি করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে দামের ওঠানামা এবং স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে, যা ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পয়েন্ট (Key Takeaways):
- বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ইতিপূর্বে টানা তিন দফায় মোট ১২,০৭২ টাকা বাড়ার পর এই প্রথম কমল।
- সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন মূল্য বাজারে কার্যকর করা হয়েছে, যা পূর্বের রেকর্ড দামের তুলনায় কিছুটা কম।
- স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম হ্রাসের কারণে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন
দেশের বাজারে টানা তিন দফা বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতির পর অবশেষে কমেছে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন এই দর নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত কয়েক দফায় প্রতি ভরিতে ৫,৪৫৮ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে স্বর্ণের দাম অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়েছিল, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল।
চলতি মাসের শুরুতে বিশ্ববাজারের দোহাই দিয়ে এবং স্থানীয় বুলিয়ান মার্কেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কয়েক ধাপে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এর ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তিন দফায় মোট ১২,০৭২ টাকা বাড়ার পর ক্রেতা সাধারণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও অলংকার কেনার প্রবণতা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মাঝেও স্থবিরতা নেমে আসে।
বাজুস সূত্রে জানা গেছে, সার্বিক বাজার পরিস্থিতি ও সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার কথা বিবেচনা করেই এই মূল্য হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে যখনই বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়, তার প্রভাব দ্রুত দেশের বাজারেও পড়ে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সোনার বাজারে এই অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
স্বর্ণের দাম কিছুটা কমায় দেশের গহনা ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের মাঝে সাময়িক স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে আসন্ন বিয়ে ও উৎসবের মৌসুমকে কেন্দ্র করে যারা সোনা কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, এই মূল্য হ্রাস তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক হবে। তবে এই দাম কমার ধারা দীর্ঘস্থায়ী হবে নাকি বিশ্ববাজারের গতির সঙ্গে ফের দাম বাড়বে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা।
বাংলা নিউজ ২৪ জাতীয় সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করে। কোনো অসঙ্গতি বা তথ্য সংশোধনের জন্য আমাদের সম্পাদকীয় বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হচ্ছে।